(পুরনো দলিল থেকে)
বন্ধুগণ, গত ২৪ এপ্রিল রানাপ্লাজায় তিন হাজারের অধিক শ্রমিককে কনক্রিটের নীচে পিষে-থেঁতলে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল। আমরা যখন এ দিনটি স্মরণ করছি- তখন হাজার হাজার আহত শ্রমিক দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে আর স্বজনেরা খুঁজে ফিরছে মৃত শ্রমিকের লাশ ।
রানাপ্লাজা গড়ে তোলা হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে, ভরাট করা এক পুকুরের উপর। ভবনটি ছিল কারখানা করার অনুপযোগী। ৮ তলা ভবনের অনুমোদন ছিল কিন্তু তৈরী করা হয় ১১তলা। নির্মাণ ত্রুটির কারণে ২৩ এপ্রিল ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশলীরা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে চেয়েছিল। কিন্তু রানা প্লাজার মালিক স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও গুন্ডা সোহেল রানা। এ দস্যুদের রাজ্যে অনিয়মই নিয়ম। রানা এ খবর ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি দেয়। পরদিন শ্রমিকদের জোর করে ভবনে ঢুকতে বাধ্য করে। বেতন নিতে, ঈদ ও হাজিরা বোনাস কাটার ভয়ে শ্রমিকরা সেদিন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়।তাই সেদিন রানাপ্লাজায় যা ঘটেছিল তা নিছক দূর্ঘটনায় মৃত্যু নয়,এক গণহত্যা।
শ্রমিকের এ দাসত্ব, গণহত্যা কোন বিচ্ছ্ন্নি ঘটনা নয়। তাজরিনে ১১২জন শ্রমিকের অগ্নিদগ্ধ লাশের খোঁজ মিলেছে । শ্রমিকদের দাবি, মালিকের মুনাফার এ অগ্নিযজ্ঞে অন্তত দেড় হাজার শ্রমিক বলি হয়েছিলেন। তারপরই স্মার্ট গার্মেন্টসে পুড়ে ছাই হয়েছিল ৭ জন শ্রমিক। অতীতে তেজগাঁওয়ে ফিনিক্স ভবন ধসে ২১ জন আর সাভারে স্পেকট্রামের ৮ তলা ভবন ধসে ৬২ জনের লাশ পাওয়া গেলেও কয়েক হাজার শ্রমিক মাটিতে মিশে যায়।এভাবে বিভিন্ন সময় গরীব এন্ড গরীব, কেডিএস, হামীমসহ বিভিন্ন গার্মেন্টে শ্রমিক হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই একে নিছক বিচ্ছিন্ন দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না।
আমরা মনে করি, দেশী-বিদেশী মালিক শ্রেণীর সর্বোচ্চ মুনাফা আদায়ে তীব্র প্রতিযোগীতার বলি হচ্ছেন আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা। বিদেশী ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশী কারখানা যে পোশাক মাত্র ৫ ডলারে বিক্রি করে, তা আমেরিকা বা ইউরোপের বাজারে ৩৫ ডলারে বিক্রি হয়। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশী মালিকরা সবচেয়ে কম দামে পোশাক বিক্রি করতে পারে বলেই, মুনাফা-লোভী বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশে পোশাক কিনতে ভিড় করে। আর একারণেই অন্যসব দেশকে ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারী দেশে পরিণত হতে চলেছে। আমরা জানি, উন্নত মেশিনপত্র দিয়ে কম সময়ে অধিক পরিমাণে ও উন্নত মানের জিনিস তৈরীতে কম খরচ পড়ে। তাই তা সস্তায় বিক্রি করা যায়। কিন্তু সবাই জানে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মেশিনপত্র, উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান অন্য দেশের তুলনায় উন্নত নয়। তাহলে কোন ‘যাদু’র বলে এদেশের মালিকরা সারা দুনিয়ার সবচেয়ে সস্তায় পোশাক তৈরী ও বিক্রি করতে পারে!?
গার্মেন্ট মালিকদের এ ‘যাদু’-র মূলমন্ত্র হল- ‘শ্রমিকদের কম মজুরিতে বেশি সময় খাটতে বাধ্য করা’। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম- মাত্র ৩৭ ডলার। এই মজুরি চীনে ২২৩ ডলার, থাইল্যান্ডে ২২১ ডলার, ভারত ও কম্বোডিয়ায় ৭০ ডলার। ১৫ টি দেশের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকেরা যে মজুরি পেয়ে থাকে, তা জীবন ধারণের উপযোগী মজুরির মাত্র ১৪ ভাগ। এ হিসাবে শ্রমিকের বাঁচার মত মজুরি দাঁড়ায় ২১,৫০০ টাকা। অব্যহত শ্রমিক বিদ্রোহের কারণে এবং নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের শান্ত রাখার জন্য সরকার ৫৩০০ টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এ ঘোষণায় আছে গোঁজামিল, মজুরি আসলে বাড়েনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত মজুরি দেয়া হচ্ছেনা। ক্ষমতায় জেঁকে বসে সরকার এখন চোখ বুজে মালিকদের খুশী করছে। আর মালিক পুরোনো শ্রমিকদের ছাঁটাই করে পুনরায় নতুন শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ দিয়ে তাদের মজুরি বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণসহ সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত করছে। হেলপার ছাঁটাই করে সে কাজের বোঝাও অপারেটরের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
কেবল অতি মজুরি শোষণই নয়, টাকা বাঁচাতে কম ভাড়ার অনুপযোগী ভবনে করাখানা তৈরী করে, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। এসবের পেছনে কোন প্রকার খরচ না করে এদেশের ‘গুণধর’ মালিকরা পোশাক তৈরীর খরচ কমায়। এ জঘন্য ‘যাদুমন্ত্রের জোরে’ই এদেশের পোশাক কারখানার মালিকরা অতিসস্তায় পোশাক বিক্রির ‘কৃতিত্ব’ অর্জন করে!
এ নির্মম শোষণের ধারা বজায় রাখা হয়-ফ্যাসিস্ট কায়দায় দমন-নিপীড়ন চালিয়ে। সিসি ক্যামেরা আর গার্ড পরিবেষ্টিত কারখানাগুলো যেন এক একটা জেলখানা! সংগঠিত হওয়া ও নিজেদের দাবী জানাবার ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার দূরে থাক সেখানে কথা বলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ। প্রায় ১৫০ বছর আগে ইউরোপে শ্রমিক শ্রেণী এ সত্য উপলব্ধি করেছিলেন, “সংগঠিত হতে হবে”। কারণ দরিদ্র, অসংগঠিত শ্রমিকরা চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতা করে। ফলে তারা সহজেই মালিকের লালসার শিকারে পরিণত হয়। তাই বহু রক্ত ও সংগ্রামের বিনিময়ে তারা শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য ও আত্মরক্ষার হাতিয়ার হিসাবে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার আদায় করেন। পাকিস্তান আমলে এদেশের শ্রমিকরা এ অধিকার আদায় করেছিল। এতে অন্তত সংঘবদ্ধ হয়ে নিজেদের মজুরিসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়াবার জন্য মালিকের সাথে দরকষাকষি করতে পারতেন। কিন্তু আজ এ গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকদের ট্রেডইউনিয়ন অধিকার দিতে নারাজ। বরং তারা ফ্যাসিস্ট কায়দায় কথায় কথায় সাহসী শ্রমিকদের ছাটাই করে, মামলা করে, গুন্ডা-পুলিশ-র্যাব দিয়ে দমন-নিপীড়ন চালিয়ে, কারখানাকে জেলখানায় পরিণত করে, লক্ষ লক্ষ শ্রমিকদের অসংগঠিত রেখে সর্বনিম্ন মজুরিতে খাটিয়ে নেয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে রেখেছে।
বন্ধুগণ, বৃটিশ, পাকিস্তানী আমলের মত বাংলাদেশও দেশি-বিদেশী শোষণের কারণে কৃষি ও শিল্পের অবনতি ঘটে। কোটি কোটি কর্মক্ষম মানুষ হয়ে যায় বেকার। আর এ কর্মহীন নারী-পুরুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় পোশাক শিল্পে জড়িত সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল দেশি মালিক শ্রেণী। এ বেকার জনতার রক্ত নিংড়ে নিতে তারা গড়ে তোলে এ পোশাক শিল্প। অন্যদিকে একটা কাজের আশায় শ্রমিকরা এ দাসের জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়।
তাই অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কারণেই আমরা দাবী করি, এই যে তীব্র মজুরি শোষণ, ট্রেড ইউনিয়নের বদলে দমন-পীড়ন আর ভবন ধসে, আগুণে পুড়ে মৃত্যু একই বিষবৃক্ষের ফল। সাম্রাজ্যবাদ, ভারত ও তার দালাল মালিক শ্রেণীর শোষণমূলক ব্যবস্থার ফলাফল হল এ শ্রমিক গণহত্যা।
এ শোষণমূলক ব্যবস্থার ধারক-বাহক-রক্ষক হল এদেশের বড় রাজনৈতিক দল-জোট, সরকার ও রাষ্ট্র। তাই এ শ্রমিক গণহত্যার দায় তাদেরও নিতে হবে। লক্ষ করুন, শ্রমিকদের প্রতি কারখানার মালিক যে আচরণ করে, এ সরকার ও রাষ্ট্র একই আচরণ করে। প্রতিটি শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের পরই মালিক এবং সরকার কেবল ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দেয়। কিন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। এতদিনেও এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কোন গার্মেন্ট মালিকের শাস্তি হয় নি। এমনকি ক্ষতিপূরণের দায় মালিককে বহন করতে হয় নি। মালিকের হয়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকার তা মিটিয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে মালিকরা বিরাট বড়াই করে। তারপরও সরকার তাদের হাজারটি সুযোগ-সুবিধা দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে।অথচ কাজের নিরাপত্তা,ন্যায্য মজুরী বা পাওনার দাবীতে শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করে,তখন সরকার তাদের গুলি করে, গুম করে হত্যা করে। ইতিমধ্যে সরকার শ্রমিক আন্দোলন দমনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শিল্প পুলিশ গঠন করেছে। কিন্তু শ্রমিকের নিরাপত্তার দিতে তদারকি ও উদ্ধার কাজের জন্য কোন ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি।মালিকের স্বার্থ রক্ষায় ও শ্রমিক নিপীড়নের ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকার শ্রমনীতি ও আইন সংশোধন করেছে। কিন্তু ট্রেডইউনিয়ন চালু কিংবা মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আইন কার্যকর করার প্রশ্নে আইন-আদালত নিরব দর্শক হয়ে থেকেছে। আওয়ামী মহাজোট অথবা বিএনপি-জামাত জোট যে দলই ক্ষমতাই ছিল- তাদের ভূমিকা ছিল একই রকম শ্রমিক বিরোধী। কিন্তু কেন এসব পার্টি ও সরকার শ্রমিক-কৃষকের ভোটে নির্বাচিত হলেও সাম্রাজ্যবাদ, ভারত ও ধনীদের স্বার্থকেই রক্ষা করে? নিগুঢ় সত্য কথা হল-নিরুপায় হয়ে শ্রমিক-কৃষক সাধারণ মানুষ এসব দলের কর্মী-সমর্থক-ভোটার হলেও, এ দলগুলো প্রকৃতপক্ষে আমেরিকাসহ সাম্রাজ্যবাদী, ভারতীয় এবং বাঙ্গালী শোষক শ্রেণীরই দল। তাই জনগণের উপর দেশি-বিদেশী শোষকদের দুঃশাসন বজায় রাখার স্বার্থে এসব দল, সরকার ও রাষ্ট্র একজোট হয়ে কাজ করে। আর জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
বন্ধুগণ, বাংলাদেশে ১৯৭৮ সাল থেকে এ শিল্প বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার গুণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ২০ শতাংশের অধিক হারে রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ গত এক দশকে মজুরি শতকরা কমেছে ২ টাকা। এভাবে পোশাক শিল্পের বাড়-বৃদ্ধির পুরো লাভ দেশি-বিদেশী মালিকেরই পকেটস্থ হচ্ছে। লক্ষ কোটি শ্রমিকের শ্রমের বিপুল সম্পদ অসম বাণিজ্যের মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী ও ভারতীয় পোশাক ব্যবসায়ীরা। ফলে এ বিপুল সম্পদ হতে বঞ্চিত হচ্ছে জাতি। এভাবে শ্রমের অপচয়, সম্পদ পাচার, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা কমার কারণে জাতীয় কৃষি ও শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ।
আমরা জানি, বৈদেশিক শোষণ মুক্তি ছাড়া জাতীয় মুক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। ভূমির অধিকার দিয়ে কৃষকের শোষণমুক্তি আর জনগণের এ ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শোষণমুক্ত কৃষকের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ছাড়া গণতন্ত্র মিথ্যা। তাই সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সেবায় নিয়োজিত এ পোশাক শিল্প এবং দালাল মালিক শ্রেণী কেবল শ্রমিক শ্রেণী নয়, সমগ্র জাতিকে বৈদেশিক শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট করছে। এভাবে সার্বভৌম শিল্প-কৃষির বিকাশের পথে, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃটিশ, পাকিস্তান আমলে আমাদের পূর্ব-প্রজন্ম বৈদেশিক শোষণ নিপীড়ন থেকে মুক্তি চেয়েছিল। তারা উপনিবেশিক শক্তির দালালদের অর্থনীতি ও শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেনি। তারা এদেশের শ্রমিক-কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক অর্থনীতি ও শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে তো বটেই, ১৯৭১ সালেও জনগণের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় নি। ১৯৭১ সালে বন্ধুবেশি ভারতীয় শোষক শ্রেণীর হাত ধরে এদেশে বৈদেশিক শক্তির দালাল বাঙ্গালী শোষক-শাসক শ্রেণী ক্ষমতার মালিক বনে যায়। এ বাঙ্গালী শাসক শ্রেণী তাই শোষণ-নিপীড়নমূলক পুরনো উপনিবেশিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না ভেঙ্গে বরং রক্ষা ও বিকশিত করেছে। একারণেই্ আজ তারা এ পোশাক শিল্পসহ সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতের স্বার্থে পরাধীন শিল্প ও অর্থনীতি গড়ে তুলেছে। এভাবে এদেশকে তাদের নির্মম শোষণ-লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত করেছে ।
স্বাধীনতা-প্রিয়, গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী তরুণ বন্ধুরা, সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষকদের দাসে পরিণত করে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা যায় না। শ্রমিক-কৃষককে সাম্রাজ্যবাদের খোরাকে পরিণত করে, কোন জাতি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে পারে না। তাই আজ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালাল শাসক শ্রেণীর ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উৎখাত করে জাতি ও জনগণের মুক্তি আনতে হবে। এজন্য মুক্তি যাদের সর্বাধিক প্রয়োজন; আসুন, সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষকদের জাগরিত ও সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করি, শিল্পাঞ্চলে ও গ্রামে যাই।
শ্রমিক বন্ধুগণ, এ নির্মম শ্রমিক শোষণের উপর গার্মেন্ট মালিকসহ, দেশি-বিদেশী শাসকশ্রেণীর সম্পদের পর্বত গড় তোলা নির্ভর করছে। তাই শোষকদের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে শ্রমিকের প্রতি এ নির্মমতার অবসান ঘটতে পারেনা। তাই ভারত-মার্কিনের তাঁবেদার হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনকে, দেশি-বিদেশী শাসক শ্রেণী এবং তাদের নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রকে বলপ্রয়োগে উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেই কেবল শ্রমিকশ্রেণী ও জনগণ এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। আর এ জন্য প্রয়োজন প্রথমত শ্রমিক শ্রেণীর একতা এবং তার নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমজীবী, ছাত্র-পেশাজীবীসহ সকল নিপীড়িত ও বিপ্লবী জনগণের ব্যাপকতর ঐক্য।
সুতরাং শ্রমিক শ্রেণীকে আজ অধিকার আদায় করতে হলে বিদেশী ক্রেতা, মালিক শ্রেণী, এনজিও-সুশীল সমাজ, আওয়ামীলীগ-বিএনপি জোট বা তাদের সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। এ দাসত্ব থেকে মুক্তির দায়িত্ব তার নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে। এ অধিকার আদায়ের একমাত্র পথ হল আন্দোলন-সংগ্রাম-বিপ্লব আর হাতিয়ার হল সংগঠন। আসুন,শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্য ও সংগঠন গড়ে তুলি। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ নির্মম শোষন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বেগবান করি।
সংগ্রামী জনতা,
” দাবিনামা “
১. রানাপ্লাজা, তাজরিনসহ সকল খুনি কারখানা মালিক ও তাদের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে।নিহতের পরিবার, আহত, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে।
২. বাঁচারমত মজুরিসহ যথাসময়ে বেতন, বোনাস ও ওভারটাইম দিতে হবে।
৩. নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক ও মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কারখানা, পর্যাপ্ত টিফিন এবং পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সকল কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন, প্রতিবাদ ও ধর্মঘট করার অধিকার দিতে হবে। প্রতিবাদকারীদেরসহ শ্রমিকদের কথায় কথায় ছাঁটাই করা, মামলা দেয়া বন্ধ করতে হবে। গালিগালাজ, মারধর, মাস্তান পোষা বন্ধ করতে হবে। দমনমূলক আইনসহ র্যাব ও শিল্প পুলিশ বন্ধ করতে হবে।
৫. শ্রমিকবিরোধী শ্রমনীতি ও আইন বাতিল করে শ্রমিক স্বার্থরক্ষায় শ্রমনীতি ও আইন তৈরী করতে হবে
৬. শ্রমিকদের সুলভে বাসস্থান, চিকিৎসা এবং সন্তানের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে
৭. আট ঘন্টা শ্রম সময়, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ দিতে হবে
শ্রমিক শ্রেণী এক হও! শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায্য দাবী আদায়ে সংগঠন ও সংগ্রাম জোরদার কর! ভারত-মার্কিনের তাবেঁদার শ্রমিকবিরোধী হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার কায়েম কর!
৮৪/ক/এ, সাদেক খান রোড, রায়েরবাজার, ঢাকা-১২০৯। মোব: ০১৭১২৬৭০১০৯। ইমেইল- gonomancha@yahoo.com ৮.৪.২০১৪

