সর্বমিত্রের এই জনপ্রিয়তা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেত বা ব্যটনের জোরের ওপরই ভরসা রাখছে।

একসময় ক্রসফায়ারও জনপ্রিয় ছিল। হিটলার, মুসোলিনি জনপ্রিয় ছিল। অবদমিত মধ্যবিত্তের সমর্থন ও আন্দোলনই নাৎসিবাদ, ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল। গণজাগরণ মঞ্চের জনপ্রিয়তার ওপরই হাসিনা ফ্যাসিবাদ বিকশিত করেছিল।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচার ও শাস্তি প্রদান আইন ও বিচার রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের আওতায় আসে। জনপ্রিয় মোড়কে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ বিকশিত হয়।

গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে কাউকে বিচার ও শাস্তিদানের অধিকার অপর সহনাগরিকের নেই। কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও কেবল চুক্তিবদ্ধ বিধির আওতায় বিধি প্রয়োগ করতে পারে, কেবল বিধিসম্মত কর্তৃপক্ষের বিধিসম্মত ক্ষমতার আওতায়।

সর্বমিত্র-কাণ্ডকারখানা সম্পূর্ণ আইন ও বিধিবহির্ভূত কাজ। সহনাগরিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি যেভাবে মর্যাদাহানি ও ট্রমাটাইজ করেছেন, তা আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু সর্বমিত্রের সমর্থকদের এই নাগরিক আত্মমর্যাদাবোধ নেই, সিভিক সেন্স নেই। নাগরিকতা আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য। কার্যত সর্বমিত্রের এই জনপ্রিয়তা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেত বা ব্যটনের জোরের ওপরই ভরসা রাখছে। এই মনস্তত্ব ফ্যাসিবাদী মনস্তত্ব। সর্বমিত্রের কাজ সেই মনস্তত্ব বিকাশের হাতিয়ার। জামাত-শিবির এই ফ্যাসিবাদী আন্দোলনেরই ধারক-বাহক।

2 comments

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন