সংস্কারপন্থীরা ( মার্কিন-ইউরো সাম্রাজ্যবাদ সমর্থিত তৃতীয় শক্তির সরকার, এনসিপি ও অন্যান্য) চাইছে বিদ্যমান “উইনারস টেক অল” সরকার ব্যবস্থার সংস্কার। তাই সরকার ব্যবস্থার সমস্ত স্তরে শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন উপদলের মধ্যে অন্তত সমানুপাতিক ক্ষমতার বণ্টনের বন্দোবস্ত তারা চায়। কিন্তু শাসক শ্রেণীর একক বড় দল হিসাবে বিএনপি এভাবে ক্ষমতা বিলিয়ে দেয়ার পক্ষে নয়। কারণ এতে তাদের ক্ষতি আর লাভ হবে ছোট শক্তিগুলোর, বিশেষত মার্কিন-ইউরো সমর্থিত সংস্কারপন্থীরা এবং জামাত, হেফাজতের মত ধর্মীয় দলগুলোর।
সংস্কারের সাথে এই সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়াও সংস্কারপন্থী ও ধর্মবাদীদের শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ ভারত এবং বাসদ, সিপিবির মত দলগুলোও তাই সংস্কারে চেয়ে দ্রুত নির্বাচনে আগ্রহী। বিএনপির সাথে তাদের ঐক্যের জায়গাটা এখানে। বস্তুত শাসক শ্রেণীর এক বড় অংশই এই স্ট্যাটাস ক্যুও বজায় রাখতে চায়। শেষ পর্যন্ত শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন উপদলের এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর শক্তির ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে, সংস্কার কতটা কি হবে। কিন্তু এই সয়স্কার এজেন্ডা যেটুকুই বাস্তবায়িত জনগণের তাতে প্রত্যক্ষ প্রাপ্তি কিছু নেই।
সর্বহারা শ্রেণী, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের দিক থেকে বিবেচনা করলে, সাম্রাজ্যবাদনির্দেশিত এই সংস্কার যদিও পরোক্ষভাবে মন্দের ভালো, কিন্তু এই মন্দের ভালোর ভিত্তিতে রাজনীতি নির্ধারণ করা হবে পাপ। কারণ তা হবে শাসক শ্রেণীর রাজনীতির লেজুড় হতে জনগণকে ঠেলে দেয়া।
আমাদের দরকার বুর্জোয়াদের মুখোস উন্মোচন করা এবং বিপ্লবী রাজনীতি ও কর্মসূচিকে সামনে আনা। কারণ শাসক শ্রেণীর ‘মন্দের ভালো সংস্কারের” লেজুড়বৃত্তির চেয়ে বিপ্লবী রাজনীতি কেবল বিপ্লবী রাজনীতিরই বিকাশ ঘটায় না, তা জনগণের জন্য দরকারি কিছু সংস্কারেও শাসকদের বাধ্য করে। কিন্তু লেজুড়বৃত্তিতে তাও হয়না। এটা লেনিনেরই কথা।
গণঅভ্যুত্থানের কারণে শাসক শ্রেণী ও তার রাষ্ট্রযন্ত্রের যে দুর্বলতা তৈরী হয়েছিল, তার সুযোগ আমাদের নেয়ার দরকার ছিল। অবদমিত মজুরি কাঠামো ও আইনের এমন সংস্কারে বাধ্য করা উচিত ছিল, যাতে শ্রমিকরা কিছুটা অবসর, চিন্তা ও সংগঠন করার সুযোগ পায়। দ্বিতীয়ত দরকার ছিল সংগঠন, সমাবেশ, মত প্রকাশে বাধাদানকারী সকল আইন, বলপ্রয়োগকারী ও বিচারিক সংস্থাকে বাতিল ও পুনর্গঠনসহ মাস্তানতন্ত্র বন্ধের বন্দোবস্ত যতদূর সম্ভব আদায় করা। তাহলে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণের সংগ্রাম বিকাশে কিছু অনুকূলতা অর্জন করা যেত। কিন্তু এটাও বিনা লড়াইয়ে সম্ভব হবে না, দরকার হবে জোরালো সংগ্রাম।

