বটবাহিনী প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে অনেক দিন। আমাদের নিজেদের ও অন্যদের অভিজ্ঞতায় আরেকটি প্রবনতার কথা উঠে এসেছে, যে, কিছু লোক (যেমন: রিক্সা বা অটোচালক) স্বপ্রণোদিতভাবে বলছে, “নৌকা, ধানের শীষেতো ভোট দিয় দেখছি, এবার দাঁড়িপাল্লায় দিয়ে দেখতে চাই”। ডাকসু নির্বাচনের রাতেও হঠাৎ হলগুলোতে এমন একটা আওয়াজ উঠেছিল। এসব কারণে আমরা ধারণা করছিলাম যে একটা সংগঠিত প্রচার কেন্দ্রীয়ভাবে জামাত-শিবির পরিচালনা করছে। জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুকে তুরস্কে “পলিটিকাল অ্যাস্ট্রোটার্ফিং” বিষয়ে একটি গবেষনাপত্রের লিঙ্ক শেয়ার করেছেন। তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এসব কৌশল তুরস্ক থেকেই আমদানি করা অস্বাভাবিক নয়।
“রাজনৈতিক অ্যাস্ট্রোটার্ফিং বলতে বোঝায় এমন একটি কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ভ্রান্ততথ্য (ডিসইনফরমেশন) প্রচার অভিযান, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্বাধীনভাবে কাজ করা সাধারণ নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক অ্যাস্ট্রোটার্ফিং অভিযানে রাষ্ট্রসমর্থিত ট্রলরা এমনভাবে আচরণ করে যেন তারা কোনো প্রকৃত তৃণমূল আন্দোলন বা জনমতের অংশ, কিন্তু বাস্তবে তারা একটি উপর থেকে পরিচালিত সংগঠনের সদস্য, যার উদ্দেশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো।
তথ্যটি সত্য হোক বা মিথ্যা—রাজনৈতিক অ্যাস্ট্রোটার্ফিং অভিযানের মূল কৌশল হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ধারণাগুলোর পক্ষে বাস্তব ও ব্যাপক জনসমর্থন আছে—এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা জনসাধারণের মধ্যে সৃষ্টি করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংবাদ এজেন্ডা নির্ধারণের সম্ভাবনা আর কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়; বরং তা বাস্তবসম্ভব, কারণ সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষ টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডিং বিষয়গুলোর প্রতি গভীরভাবে নজর রাখে।”

