পিতৃতান্ত্রিক শোষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করুন!!
সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সুদাসল মওকুফসহ কিস্তির শোষণ ও জুলুম বন্ধ করতে হবে, স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ প্রদান করতে হবে।
শ্রমিক নারীদের ২৫ হাজার টাকা ন্যুনতম মজুরি, সমকাজে সমমজুরি, মাতৃত্বকালীন সবেতন ৬ মাসের ছুটি দিতে হবে। মাতৃত্বকালে ছাঁটাই গুরুতর অপরাধ গণ্য করে আইন প্রণয়ন করতে হবে। প্রবাসী নারী শ্রমিকদের দাসশ্রম বন্ধ, সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে।
নারীর গার্হস্থ্য কাজের বোঝা অপসারণে শিশুর ৫ বছর পর্যন্ত মাতৃত্ব ভাতা, কর্মস্থলে দিবাযত্ন কেন্দ্র, সন্তানের জন্য কর্মঘন্টা অবধি স্কুলের ব্যবস্থা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুলভ ও মানসম্মত খাবার, কাপড় ধোলাই, শিশু ও বয়স্ক যত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বহু বিবাহ, বাল্যবিবাহ, যৌতুক বন্ধসহ পছন্দমত প্রেম-বিয়ে, সন্তানের অভিভাবকত্ব, বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরণ-পোষণ ও পৈত্রিক সম্পত্তিতে অধিকারসহ সমঅধিকারভিত্তিক পারিবারিক আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে।
সামাজিক ও গণমাধ্যমে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, শিল্প, সাহিত্যে, পাঠ্যপুস্তকে; ব্যক্তি বা জনপরিসরে পণ্য ও যৌনবস্তুকরণসহ নারীর প্রতি অবমাননাকর, বিদ্বেষমূলক যে কোন বক্তব্য বন্ধ করতে হবে। রুচি-পছন্দ, চলা-ফেরা ইত্যাদি বিষয়ে প্রথা অনুসরণ করবে কি করবে না-তা নারীর ব্যক্তিগত অধিকার হিসাবে গণ্য করতে হবে। নারীর ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যাতায়াত, গণটয়লেট, বয়স্কভাতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী স্বার্থকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংখ্যালঘু জাতি, ধর্ম, ভাষা নারী ও অপরাপর লিঙ্গের স্বাতন্ত্রের প্রতি মর্যাদাসহ সমাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পতিতাদের উচ্ছেদ ও নির্যাতন বন্ধ করে পুনর্বাসন করতে হবে।
ফ্যাসিস্ট ক্ষমতাধারীদের দ্বারা নারীদের ওপর অবাধ ধর্ষণ ও যৌননিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পরিবার, জনপরিসর ও কর্মস্থলসহ সর্বত্র নারীর যৌননিপীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। যৌননিপীড়নবিরোধী মনিটরিং সেল কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় পুলিশী ও আইনী হয়রানি ও জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ও নারীবান্ধব সুলভ বিচার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। কল্পনা চাকমা, মুনিয়া, তনু, নুসরাতসহ সকল ধর্ষণ-হত্যা-অপহরণ-নিপীড়নের বিচার করতে হবে।
শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবীসহ সকল নারীদের ট্রেড ইউনিয়ন, নারী সংগঠন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন করতে দিতে হবে। মতপ্রকাশ ও সমবেত হওয়ার অধিকার দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার খর্বকারী সকল দমনমূলক আইন বাতিলসহ পুলিশী, সন্ত্রাসী, প্রথাগত নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
★ নারী অধিকার আদায়ের হাতিয়ার; বিপ্লবী নারী সংগঠন গড়ে তুলুন! গণমঞ্চসহ সকল সংগঠনে নারীমুক্তির দৃষ্টিকোণ ও অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করুন!
★ তুরস্কের “রোজাভা” ও ইরানের “নারী, জীবন, মুক্তি” আন্দোলনসহ বিশ্বের দেশে দেশে নারী আন্দোলনের প্রতি সংহতি! পিতৃতন্ত্রের ধারক-বাহক সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের প্রতি সংহতি!
★ ক্লারা জেটকিন, ক্রুপস্কয়া, চিয়াংচিঙ, অনুরাধা, শহীদ রাবেয়া বেলীর পথ ধরে এগিয়ে চলুন!
★ সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ, মহামারি, মূল্যস্ফীতি, অনাহারের প্রথম শিকার নারীরা- এ ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে সোচচার হোন, রুখে দাঁড়ান!
★ পিতৃতন্ত্রের সামাজিক ভিত্তি সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ, ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ উৎখাতের সংগ্রামের সাথে নারী মুক্তি আন্দোলনকে ঐকবদ্ধ করুন!


https://shorturl.fm/lGkH7