আপনার মতে পাকিস্তানের গণহত্যা “বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিহারী গণহত্যার ফল”। বিহারী-বাঙালী মূল দাঙ্গা ঘটেছিল মূলত ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত। যা ছিল ১ লা মার্চ গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণার তৈরী বিস্ফোরিত ক্ষোভ ও গণ অভ্যুতথানের প্রতিক্রিয়া- ২৪-এর অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার মতই ঘটনা।
২৩ মার্চের দৈনিক সংগ্রামেও দেশের পরিস্থিতির জন্যে পশ্চিমাদের নিপীড়ন-বঞ্চনাকেই কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, “বিহারী গণহত্যার” কোন উল্লেক পর্যন্ত নেই।
যদি “বিহারী গণহত্যা”ই ঘটত, তার কারণে সামরিক বাহিনী নামিয়ে পাল্টা গণহত্যা চালাবার প্রয়োজনই হত, তবে এত বড় ঘটনা দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের খবরে আসত না! পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক নেতারা বক্তব্য বিবৃতি না দিয়ে চুপ থাকতেন? ২৪ মার্চ পর্যন্ত আপনি গণহত্যার একটা রিপোর্ট, বক্তব্য, বিবৃতি পূর্ব-পশ্চিম মিলিয়ে দেখাতে পারবেন? বিহারি-বাঙ্গালি দাঙ্গার সরকারি তদন্ত রিপোর্ট মার্চেই প্রকাশিত হয়েছিল। বিহারি-বাঙ্গালি মিলে কতজন প্রাণ হারাবার কথা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, জানেন? জানেন না। বিহারি গণহত্যার গল্প অনেক বছর পরে তৈরী হয়েছে। গোল টেবিল বৈঠক চলাকালেই ১৮ মার্চ গণহত্যার ছক কষা হয়েছিল। বৈঠকের আলোচনায় কখনো এই তথাকথিত “বিহারী গণহত্যার” আলোচনা এসেছে? কোন রিপোর্ট দেখাতে পারবেন? পারবেন না। কারণ এই তথাকথতি গণহত্যা দূরে থাক, তার গল্পও তখনো তৈরী হয়নি।
আপনারা জামাতিরা মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। মিথ্যা হিটলারের মত সকল ফ্যাসিস্টদেরই আশ্রয়। আপনারা ধার্মিক নন, তাহলে অন্তত মিথ্যা থেকে বিরত থাকতেন। আপনারা ধর্মকে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির আদর্শিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি, জায়নবাদী ফ্যাসিস্টরা ধর্মকে ঠিক যেভাবে ব্যবহার করে।
আপনার বক্তব্য প্রমাণ করে, আপনারা পাক গণহত্যাকে সঠিক মনে করেন। বস্তুত আপনারা পাকিস্তান চেয়েছিলেন, এখনও চান। বাংলাদেশ আপনারা মেনে নেননি। যা কিছু করেন, তা কৌশলগত কারণে, নীতিগতভাবে নয়। আসলে বাংলাদেশ আপনাদের না। আপনারা বস্তুত পাকিস্তানের।
মনে রাখবেন, একাত্তরে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ আপনাদের ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে একবার পরাজিত করেছে, প্রয়োজনে আবারো করবে।

