বাটন ফোন ব্যবহার করা দীপুর অপরাধের কোনো প্রমাণ ই এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে দেখলাম না কাউকে। এমনকি যারা এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বে ছিল তাদের কেউ গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা যায় নি এ পর্যন্ত। ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে জলজ্যান্ত একটা মানুষকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে- গাছে ঝুলিয়ে- পুড়িয়ে মারা হলো; নাই করে দেওয়া হলো; রাষ্ট্র নিশ্চুপ; এমনকি আপনারাও সবাই নিশ্চুপ! যেন কিছুই হয় নি!
দেশে প্রচলিত আইন আছে, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা আছে। প্র্থিবীতে যত বড় অপরাধ ই হোক না কেন অপরাধীর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার সুরক্ষিত, এটাই সভ্যতা। বেচারা দীপুকে সেই সুযোগটিও দেওয়া হয় নি। আমরা জানতেও পারলাম না কি তার অপরাধ!
শোনা কথায় গুজব রটিয়ে যে কাউকে হত্যা যোগ্য করার জন্যই কি আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছিল মুক্তিকামী জনগণ!
হাসিনা ” মুক্তিযুদ্ধ ” কে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের টুলসে পরিণত করেছিল ; এখন যারা “ধর্ম” কে নব্য ফ্যাসিবাদের টুলসে পরিণত করছে, তাদের ব্যাপারে ধর্মপ্রাণ সর্বস্তরের মুক্তিকামী জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষ, সভ্যতা ও দেশবিরোধী এই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন জরুরী কর্তব্য ; শহরে আগুন লাগলে, তা একদিন না একদিন দেবালয়কে পুড়ে ছাই করবেই; সুতরাং আমি বা আপনি কেউ আজ আর সুরক্ষিত নই, এটাই এখন বাস্তবতা, কঠিন সত্য।
হিন্দু- মুসলিম- পাহাড়ি – আদিবাসী, নির্বিশেষে আপনাদের সবার প্রতি আকুল নিবেদন; আপনারা চুপ করে থাকবেন না; আপনাদের নিরবতাকেই ওরা সমর্থন ভেবে আরও ফ্যাসিস্ট ও হিংস্র হয়ে উঠছে। আজ আমরা যদি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করি – আমরা আমাদের সন্তানের জন্য একটা “নরক” ছাড়া আর কিছুই রেখে যেতে পারবো না 😥।

