মার্কিন-ভারতের দালালদের লুটপাটের প্রতিযোগিতামূলক নয়াবন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা তথা মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশিত নয়া উদারতাবাদী-ধর্মবাদী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতি গণভোটে জনসম্মতি উৎপাদনের বিরোধিতা করুন!

শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের গণতন্ত্র ও নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী শক্তি, সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শোষিত নিপীড়িত জনগণ অকাতরে জীবন দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছেন- তুলে ধরেছেন নতুন রাষ্ট্রের মূল দাবী। 

কিন্তু, মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা দ্রুতই অভ্যুত্থানের ফল কুক্ষিগত করেছে। এ নয়া মীর জাফর গং শোষিত নিপীড়িত জনগণকে করেছে প্রতারিত । 

১/১১-এর তৃতীয় শক্তির সরকার পুরোনো রাষ্ট্রের যে নয়া উদারতাবাদী বাজারমুখী সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছিল ইন্টারিম সরকার মূলত সেই অসমাপ্ত কর্তব্য সর্বাঙ্গীনভাবে সম্পাদনের দায়িত্ব নিয়েছে।

যার উদ্দেশ্য হলো উপনিবেশিক উত্তারাধিকার ও নয়া উপনিবেশিক রাষ্ট্রচালিত প্রবৃদ্ধিমুখী নীতির কারণে সামরিক শাসন জুড়ে গড়ে ওঠা একচেটিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা, যা পরে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের আকারে সংরক্ষিত হয়ে এসেছে, তাকে সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বহুদল ও বহু কেন্দ্রে বিভক্ত করা যাতে বাজার প্রতিযোগিতার অনুকূলে বাজারের মালিকদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে একচেটিয়ার অবসান ঘটে ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।

জুলাই সনদ হলো সেই রাষ্ট্র সংস্কার ও বিশ্বাসঘাতকতার দলিল।

যার লক্ষ্য হলো এদেশের শ্রমিক কৃষক দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর নয়া উপনিবেশিক শোষণ-শাসন শক্তিশালী করার জন্য নয়া উপনিবেশিক-সামন্ত আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রটিকে আরো সংহত ও উপযোগী করে তোলা, ভুরাজনৈতিক স্বার্থে সংকটগ্রস্থ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সেবায় অধস্তনতার বন্ধন আরো শক্ত করা। 

যার ফলে সামনে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের শোষণ-নিপীড়ন আরো গভীরতর হবে। মার্কিনের ভুরাজনৈতিক স্বার্থে তার প্রক্সির ভুমিকায় বাংলাদেশ বাধ্য হবে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা বাড়বে, সাম্রাজ্যবাদী সংঘাতে বলি হবে জাতি ও জনগণ। এবং মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক খুঁটি ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তি ও কেনা গোলাম সিভিলি সোসোইটির বিকাশ তরান্বিত হবে।

সুতরাং দেশি-বিদেশি শাসক শ্রেণীর শোষণ-লুণ্ঠন-নিপীড়নের পুরনো একচেটিয়া রাজনীতি এবং সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশিত উদারতাবাদী-ধর্মবাদী রাজনীতির মধ্যে  পক্ষ বাছাই করার কোন সুযোগ জনগণের নেই। এদের কারো পক্ষে আমাদের সম্মতি উৎপাদন করার সুযোগ নেই। বরং তাদের গণবিরোধী নয়া বন্দোবস্ত ও রাষ্ট্র নবায়নের নির্বাচন ও গণভোটের সচেতন বিরোধিতাসহ শোষিত নিপীড়িত জনগণের নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করাই জনগণের কর্তব্য।

কেবলমাত্র শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের গণতন্ত্র আসতে পারে। কাজেই,  সকল ধরনের স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদের অবসান ও নিপীড়িত জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিপ্লবী শক্তির নেতৃত্বে সংগঠিত গণশক্তির উত্থান ঘটাতে হবে। তাই, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা বাংলাদেশের শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি,

মার্কিন-ভারতের দালালদের লুটপাটের প্রতিযোগিতামূলক নয়াবন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা তথা মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ নির্দেশিত নয়া উদারতাবাদী-ধর্মবাদী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতি গণভোটে জনসম্মতি উৎপাদন ও গণবিরোধি রাষ্ট্র নবায়নের বিরোধিতা করুন!

শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জনগণের গণতন্ত্র ও নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী শক্তি,-সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তুলুন!!!

1 comment

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন