জামাত একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি যারা বর্তমান সরকারে দল হিসাবে প্রধান অংশীদার, মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের খাস দালাল। যারা দেশের বড় বুর্জোয়া শ্রেণীর একাংশের (নাবিল, আকিজ, ইসলামী ব্যাংকের মত অতিধনী গ্রুপগুলোের) প্রতিনিধি। জুলাই আন্দোলনকে যারা বিক্রি করেছে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের কাছে। এরাই রাষ্ট্রের কাঠামোগত পুনর্গঠনের সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্পের প্রধান রাজনৈতিক সহযোগী ও সুবিধাভোগী। যা বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি ও ভূ-রাজনীতির দাসত্বকে গভীরতর করবে।
এই জামাত, যারা পাক ফ্যাসিস্টদের উপনিবেশিক শোষণ-পীড়ন ও একাত্তরের গণহত্যাকে অস্বীকার করে, তাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, আগুন ও লুণ্ঠনকে অনুমোদন করে, সেই গণহত্যার সহযোগীদের নায়ক মনে করে।
যারা সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রতারিত করে ধর্মকে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
যারা ধর্মবাদী উন্মাদনা তৈরীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের উপনিবেশিক আধিপত্যকে স্রেফ ধর্মবাদী বিরোধিতায় পর্যবসিত করেছে।
যারা ঘোষিতভাবে পিতৃতান্ত্রিক, ধর্মবাদী ও উগ্রজাত্যাভিমানী।
এইরকম একটি শক্তি শাসক শ্রেণীর সংকটের সুযোগে, বিশেষত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ঘৃণীত কর্মকাণ্ড ও গোপন মদদের সুযোগে এবং দেশি-বিদেশি শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় ফ্যাসিবাদী উন্মত্ত জনআন্দোলন আকারে বিকাশ লাভ করছে। ঠিক যেভাবে হিটলার মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট আন্দোলন, ভারতে বিজেপি বিকাশ লাভ করেছিল।
ফ্যাসিবাদের বিকাশকালে তৎকালীন কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরা তাদের বিরোধিতার প্রশ্নে বিভক্ত ছিল, যা তাদের উত্থানকে সহজ করেছিল। সুতরাং, এখনই এই ফ্যাসিবাদী উন্মত্ত জনআন্দোলন আকারে বিকাশমান এই শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে উন্মোচনে হাজারগুণ বাড়তি প্রচেষ্টা দরকার।
অন্যদিকে, বিএনপির হীনচরিত্র লোকের চেনা। লোকে তাদের প্রকাশ্যে দেখে, জানে ও বোঝে। তারা বিগত ৩ দশকের রাজনীতির ধারাবাহিকতা ছাড়া কিছুই না। ফলে তারা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবনতা ধারণ করলেও উন্মত্ত জনআন্দোলন আকারে ফ্যাসিস্ট শক্তি হওয়ার উপাদান তার এখনই নেই। তাই তাদের তাকে উন্মোচন করার প্রয়োজন ততটা নেই, যতটা জামাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।

