এসব যৌননিপীড়নের জন্য নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাসকে আমরা দায়ী করছিনা। বরং সংশ্লিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই এর শর্ত নিহিত আছে। ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে চার্চের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। তার বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন গড়ে উঠতে এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে।
বস্তুত মাদ্রাসা বা স্কুল যাই হোক, শিশুদের জন্য আবাসিক হোস্টেল বা লিল্লা বোর্ডিংগুলোর কাঠামোগত কারণেই শিক্ষার্থীরা যৌননিপীড়নসহ যে কোন নিপীড়নের জন্য সবচেয়ে অসহায় ও সহজ শিকারে পরিণত হয়। এখানে কাঠামোগত যে শর্তগুলো কাজ করে তার মধ্যে কয়েকটি হল:
(১) এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত। কিন্তু আত্মরক্ষার মত যথেষ্ট বুদ্ধি ও শারীরিক বিকাশ শিশুদের থাকেনা। ফলে সাধারণভাবে (ফলে এসব প্রতিষ্ঠানেও) শিশুরা যৌনশিকারীদের সবচেয়ে সহজ শিকারে পরিণত হয়ে থাকে।
(২) আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা বহুগুণ বেড়ে যায়। অনাবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুরা দিনের নির্দিষ্ট কর্মদিনে থাকে। বাকী সময় নিজ অভিভাবকদের তত্ত্ববধানে থাকে। ফলে এ অবস্থায় তাদের নিপীড়ন করা সহজ নয়। কিন্তু আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তায় বড়রকম ফাঁকপোকড় তৈরী হয়।
(৩) বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠাগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি যথেষ্ট শিথিল থাকে। হোস্টেল বা বোর্ডিং-এর দায়িত্বরত শিক্ষক/সুপার একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। তার সাথে যুক্ত হয় ধর্মীয় কর্তৃত্ব। শারীরিক শাস্তির প্রথার কারণে শিশুরা সহজে এসব শিক্ষকদের ক্ষমতার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যৌনশিকারি শিক্ষক বা প্রশাসক এই সুযোগ সহজে গ্রহণ করতে পারে।
(৪) ধর্ম যৌনতার ক্ষেত্রে যেসব বিধি-নিষেধ আরোপ করে, মোল্লা-পুরোহিতদের মধ্যে কারো কারো ক্ষেত্রে তা বিকৃত যৌনতার দিকে ঠেলে দেয়। এর একটা প্রভাব মাদ্রাসাগুলোতে পড়ে।
(৫) আমাদের দেশে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা পড়াশুনা করেন, যারা সামাজিক-রাজনৈতিকভাবেও ক্ষমতাহীন। মাদ্রাসাগুলোর ধর্মীয় ক্ষমতার কাছেও তারা অসহায়বোধ করেন। ফলে অভিভাকদের দিক থেকে জোরালো পাল্টা আঘাত আসবেনা বা আসলেও তা ম্যানেজেবল হওয়ায় তাদের সন্তানরা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে থেকে এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ দেখা যায় না। তাদের মধ্য থেকেই এর প্রতিবাদ ও প্রতিকারে দাবি তোলা দরকার।


Monetize your influence—become an affiliate today!