সেনাসমর্থিত ১-১১ সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণের এই নিয়ম চালু হয়েছিল। ক্যাম্পাসে সিসি টিভি বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিশ্বিবদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের এই ভয় ও সতর্কতার কারণটা আগস্ট আন্দোলন ২০০৮ সত্য প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণআন্দোলনের “পাওয়ার হাউস” হিসাবে ছাত্র, শ্রমিক এবং কৃষকরা বারংবার প্রমাণ রেখেছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে এই পাওয়ার হাউসগুলো সরকারি দলগুলো তাদের গুণ্ডাবাহিনীগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। বাংলাদেশে কেন ১৯৯০ সালের পর কোন ব্যাপক গণসংগঠন এবং তাদের নেতৃত্বে সংগঠিত কর্মসূচিভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী গণআন্দোলন দাঁড়াতে পারেনি; কেন আন্দোলনগুলো ক্ষণকালীন স্বতঃস্ফূর্ত রূপ নিতে বাধ্য হয়েছে, তার খোঁজ এই সংসদীয় ফ্যাসিবাদের মধ্যেই মিলবে, অন্যকোথাও নয়।

যুগ যুগ ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে অবারিত জনসমাগম হয়েছে। কেউ একারণে শিক্ষার পরিবেশের ক্ষতির কথা বলেনি। কিন্তু এখন ক্যাম্পাসগুলোকে আবারো জনবিচ্ছিন্ন করার নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ে দলীয়গুণ্ডাতন্ত্রের বদলে “ক্যাম্পাস পেট্রল’ নামে প্রশাসনিক-ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটা বাহিনী গঠন করা হয়েছে। রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলা হয়েছে। গুণ্ডাতন্ত্র সরাসরি প্রয়োগ করা যাচ্ছে না বলে, ক্ষমতাসীন শক্তির ছাত্র সংগঠনগুলো আধিপত্য কায়েমের নতুন রূপ নিচ্ছে। প্রত্যক্ষ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে ছাত্রদের সংগঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতার যে ঘাটতি তৈরী হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সস্তা জনপ্রিয় স্লোগান তুলে তারারউদ্দেশ্য হাসিল করছে।

ফরাসি বিপ্লবের সময় নারীরা অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিপ্লবের পরেই পিতৃতান্ত্রিক বুর্জোয়া সমাজ রাস্তায় নামা মুক্ত নারীদের ঘরবন্দীর নির্দেশ দেয়। প্রচলিত আছে যে, যুদ্ধের পর প্রথম কাজই নাকি যোদ্ধাদের নিরস্ত্র করা।

জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান দেখিয়ে দিয়েছে, যত দমন-পীড়নই করা হোক না কেন, উপযুক্ত প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে পারলে, প্রবল প্রতাপশালী সরকারকে উৎখাত করে দেয়ার মত শক্তি এখনো ক্যাম্পাসগুলো ধারণ করে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হাসিনা ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মার্কিন মদদপুষ্ট সেনাসমর্থিত তৃতীয় শক্তি এবং দালাল ধর্মবাদীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। নব্যশাসকরাও যে চরমগণবিরোধী শক্তি তা প্রকাশ পাচ্ছে এবং আরো পাবে। তাদের মসনদ সুরক্ষার জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠবে এই মুক্ত লড়াকু ক্যাম্পাসগুলোই। নব্যশাসকগোষ্ঠীর মসনদ সুরক্ষার জন্য এখন ক্যাম্পাসগুলোকে “নিরস্ত্র” করার পালা। জনবিচ্ছিন্ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার মাস্তানি কায়েমের এটা শুরু-শেষ নয়।

ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের এই “নিরস্ত্রীকরণ প্রকল্প” এখনই সতর্ক হতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন