None of them were raped except two!

“একটি ইতালীয় চিকিৎসক দলের সমীক্ষার উল্লেখ করা যায়। এতে যুদ্ধশিশু জন্মদানকারী মহিলাদের সংখ্যা চল্লিশ হাজার বলা হয়েছে। লন্ডন ভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড ফেডারেশনের (আইপিপিএফ) হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা দু’লক্ষ। ঐ সময়ে যুদ্ধশিশুদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন সমাজকর্মী ড. জিওফ্রে ডেভিসের যুক্তি ছিল যে, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কতজন নির্যাতিতা মহিলার গর্ভসঞ্চার হয় এবং কতজন সন্তান জন্ম দেন সে সংখ্যা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত বলা যায়। একটি সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা তিন লক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এ সংখ্যা নির্ধারণে অনুসৃত পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বলা যায় না। ড. ডেভিসের মতে দু’ লক্ষ মহিলা গর্ভধারণ করেন। কিন্তু এ সংখ্যাটিও কোনো সমীক্ষার ফল নয়, নিতান্তই তাঁর অনুমান।

ঐ সময়ের সংবাদপত্রে যুদ্ধশিশুদের নিয়ে যত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, সেগুলোর মধ্যে দুঃস্থ মহিলা পুনর্বাসন বোর্ডের সভাপতি বিচারপতি কে.এম সোবহান, মিশনারীজ অব চ্যারিটির সিস্টার মার্গারেট মেরি এবং আইপিপিএফ-এর ড. জিওফ্রে ডেভিস, ওডার্ট ফন শুল্জ প্রমুখের সাক্ষাৎকারও ছিল। তাঁদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, স্থানীয় বাঙালি চিকিৎসকদের সহায়তায় ব্রিটিশ, মার্কিন ও অস্ট্রেলীয় চিকিৎসকদের একটি দল ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৩ হাজার নির্যাতিতা মহিলার গর্ভপাত ঘটান। ১৯৭২ সালের শুরুতে প্রাপ্ত গর্ভপাতের এ তথ্যটি ছিল ব্যাপক ও গ্রহণযোগ্য। এরপর বিদেশ থেকে চিকিৎসক দল বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন। তারা ঢাকায় গর্ভপাত করানো বা সন্তান জন্মদানের জন্য ‘সেবা সদন’ নামে পরিচিত বেশ কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলেন।”

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন