তখনো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিদ্যমান। ২০১৪ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রথমটায় জামাতকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল গ্রহণ করেছিল। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বদলে একটা আঁতাত করেছিল সাজেদা চৌধুরীর মাধ্যমে। একাত্তরের ভূমিকার কারণে সাজেদা ডানপন্থীদের বিশ্বস্ত ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কট্টর জামাতবিরোধীরা এটা পছন্দ করেনি। ভারতপন্থী এই অংশের পৃষ্ঠপোষকতায় বহুদিন ধরেই সিপিগ্যাংযের সহযোগীরা যুদ্ধাপরাদের বিচারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলায় অনলাইনে সক্রিয় ছিল। তারা কালার রেভ্যুলেশনের কর্মপদ্ধতি ব্যবহার করছিল। আওয়ামী লীগ-জামাতের আঁতাত এবং কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের রায়ের পর তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে তাহরির স্কয়ার স্টাইলে শাহবাগ গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসে। তারা তখনো চূড়ান্তরকম ঘৃণীত হয়ে পড়েনি। শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার হোক– এই দাবি জনপ্রিয় ছিল। এই দাবির একটা ন্যায্যতা ছিল এবং আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় মধ্যবিত্ত এই দাবিতে বিপুলভাবেই মাঠে নেমে আসে। এরপর বিএনপির তৎকালীন আন্দোলন ও এজেন্ডা স্রেফ “নাই” হয়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝে আওয়ামী লীগ ভোল পাল্টে শাহবাগ আন্দোলন কব্জা করে নেয়। এই জোয়ারের ওপর ভর করেই নির্বাচন জেতার আশা করে।
জামাত-বিএনপিকে এই রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধারে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় মাহমুদুর রহমান। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারায় আমার দেশ শাহবাগী ব্লগারদের মহানবীর চরিত্র হননকারী ও ইসলামবিদ্বেষী পুরোনো পোস্টগুলো ছাপাতে শুরু করে। একে ইস্যু করেই হেফাজতে ইসলাম প্রথমে ৫ মার্চ এবং তারপর ৫ মে শাপলা উত্থান ঘটানো হয়।
এভাবে শাসক শ্রেণীর ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকেই উগ্রজাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী দুই ক্যাম্পের বড় আকারে উত্থান ঘটেছিল। তারা জনগণকে বিভক্ত করে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। যার জের এখনো চলমান।
এটাই ছিল মাহমুদুর রহমান এবং আমার দেশের চূড়ান্ত “অমর কৃতিত্ব”। মাহমুদুর রহমান তার এই “কৃতিত্ত্বের” যথাযথ স্বীকৃতি আজও পায় নি।

