সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী শক্তি উত্থানের লক্ষ্যে সর্বহারার শ্রেণীগত একতা গড়া, তার সাথে রাজনৈতিক আন্দোলনের মিলন ঘটাতে গণ্ডীভেদী প্রচেষ্টায় নিবেদিত হোক আসন্ন পহেলা মে!

বিশ্ব পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেই আজ এক গভীর সংকটে পড়েছে। সংকটের বোঝা তারা শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণের ওপর ক্রামগত চাপিয়ে চলেছে। তা চলমান শোষণ-লুণ্ঠন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি, অনাহার, অনিশ্চয়তাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। নয়া উপনিবেশিক শোষণ-নিপীড়ন তীব্রতর হয়েছে। তার প্রতিক্রিয়ায় জনগণের বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। তা দমনে দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী মদদে ফ্যাসিবাদ জেঁকে বসেছে। দুনিয়াকে পুনর্বণ্টনের জন্য আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বগুলো আগ্রাসী যুদ্ধ থেকে বিশ্বযুদ্ধের বিপদ ডেকে আনছে।

কিন্তু পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ সংকট, যুদ্ধ ও ধ্বংস ডেকে আনার সাথে সাথে এক বিরাট বৈপ্লবিক পরিস্থিতিরও জন্ম দিচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার অংশহিসাবে বাংলাদেশেও অভূতপূর্ব এক অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব আমরা ঘণীভূত হতে দেখছি। ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে মরিয়া সংকটগ্রস্থ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী অনুপবেশকে গভীরতর করছে। দীর্ঘকালীন তীব্র শোষণ-নিপীড়নের সাথে অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতিতে জনমনে ক্ষোভ তুষের আগুণের মত জ্বলছে।

সারা দুনিয়ার মত বাংলাদেশেও সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ যত নখদন্ত প্রদর্শনই করুক না কেন,-তারা আজ গভীর সংকটে পড়েছে। আর বিপ্লবী পরিস্থিতির মধ্যে জেগে উঠছে জনগণের সংগ্রাম ও সর্বহারা নেতৃত্বে বিপ্লবী শক্তিসমূহের উত্থানের সম্ভাবনা।

চলমান বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ, বিপর্যয়সহ দেশে দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান ও পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধের বিপদ রুখে দাঁড়াতে হলে, সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রেণী, নিপীড়ড়িত জাতি ও জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে- এই সম্ভাবনাকে আজ কাজে লাগাতেই হবে।

আজকের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়ায় এ বিপ্লবী সম্ভাবনার রূপকার হতে পারে কেবল সর্বহারা শ্রেণী। সর্বহারার নেতৃত্বে নিপীড়িত জাতি ও জনগণই পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে পারে। উন্মোচন করতে পারে মুক্তির দ্বার।

কিন্তু সর্বহারা শ্রেণী পার্টিগত ও শ্রেণীগতভাবে সংগঠিত না হয়ে এ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারে না। আবার কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে শ্রমিক আন্দোলনের মিলন ছাড়া সর্বহারার পার্টিগত ও শ্রেণীগত ঐক্য গড়ে উঠবে না- কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী আন্দোলনও বাস্তব শক্তিতে পরিণত হবে না- উত্থান ঘটবে না বাস্তব বিপ্লবী শক্তির।

আজকে বাংলাদেশসহ বহুদেশেই বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে শ্রমিক আন্দোলন যথেষ্ট একীভূত হতে পারেনি। যে কারণে বিপ্লবী আন্দোলন বস্তুগত শক্তিতে (Material force) পরিণত হতে পারছেনা।

তাই আজকের বিপ্লবী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হলে আশু প্রয়োজন হল সর্বহারা শ্রেণীকে শ্রেণীগতভাবে সংগঠিত করা, সমাজতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে তার মিলন ঘটানো এবং একালে বিপ্লব সংগঠিত করার মত যোগ্য সর্বহারা পার্টি গঠন অথবা পুনর্গঠন করা।

আসুন, সাম্রাজ্যবাদও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী শক্তি উত্থানের জন্য সর্বহারার শ্রেণীগত একতা গড়তে, শ্রমিক আন্দোলনের সাথে রাজনৈতিক আন্দোলনের মিলন ঘটাতে গণ্ডীভেদী উল্লম্ফনমূলক প্রচেষ্টায় নিবেদিত করি আসন্ন মহান মে দিবস!

আওয়াজ তুলি:

  • ২৫ হাজার টাকা ন্যুনতম মজুরি, ৮ ঘন্টা কাজ, কাজ অথবা বেকার ভাতা, পূর্ণ রেশনিং ও সংগঠন-সমাবেশ-ধর্মঘটের অবাধ অধিকার চাই!
  • আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং মার্কিনের হাতে সমূদ্রের গ্যাসব্লক তুলে দেয়াসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী ফ্যাসিবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান!!
  • ভারতের দালাল আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক জনগণের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন!
  • সংকট-অনাহার-যুদ্ধসহ সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলরা ধ্বংস হোক!
  • সকল দেশের সর্বহারা শ্রেণী, নিপীড়িত জাতি ও জনগণ- এক হও!
  • মজুরি দাসত্ব অবসানের সংগ্রাম চলবে!

জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ,

২৯ এপ্রিল ২০২৩

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন