আসন্ন জনজোয়ারকে সংস্কার নয়, বিপ্লবী পথে চালিত করুন!
ভারতের দালাল অতিধনীদের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বেগবান করুন!
ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন!
আজ ৭ নভেম্বর, ২০১৯ জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের ১১শ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবেরও ১০২তম বার্ষিকী। আমরা সারা দুনিয়া ও বাংলাদেশের নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ায় শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের মুক্তির সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
আজ বাংলাদেশের জনগণের বুকের উপর জগদ্দল পাথরের মত জেঁকে বসেছে- আওয়ামী ফ্যাসিবাদ। গত ৩০ ডিসেম্বর ভারতের মদদে নজিরবিহীন নৈশভোটের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ গদী রক্ষা করেছে। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের আয়োজনে এ ভোটডাকাতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অপরাধীকরণকে পরিপুর্ণ করেছে। সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদের দালাল ধনীক শ্রেণীর চরম অপরাধী এক রাষ্ট্র জনগণের টুটি চেপে ধরেছে।
দেশের ধনীশ্রেণী একদিকে দুনিয়ার সবচেয়ে কম বেতন-মজুরী দিয়ে, ফসল ও পণ্যের মূল্য বঞ্চিত করে, অতি পরিমাণে মুনাফা, সুদ, কর আদায় করে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তকে শুষে-নিংড়ে নিঃশেষ করছে। অন্যদিকে জাতীয় ও সম্পদের হরিলুট আর বিদেশীদের কাছে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে দ্রুত গতিতে অতিধনী হচ্ছে। দালাল চরিত্রের এ ধনীরা উদ্বৃত্ত পুঁজি জাতীয় শিল্প-কৃষির উন্নয়ন না ঘটিয়ে সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানির দালাল হিসাবে সস্তা শ্রমের কারখানা স্থাপন করছে নয়ত লুটের টাকা বিদেশে পাচার করছে। দেশে জীবনযাপন উপযোগী কাজের ব্যবস্থা না করে তারা সস্তা শ্রমের কারখানায় বা কম আয়ের কাজে ঠেলে দিচ্ছে, নয়ত প্রবাসী শ্রমিকের নামে আধুনিক দাস ব্যবসা চালাচ্ছে। প্রবল ক্ষোভ ও ঘৃণা জাগ্রত হয়, যখন দেখি স্বাধীনতার জন্য যে জনগণ লাখে লাখে প্রাণ দিয়েছে, তাদেরই সন্তান আজ সৌদি সমান্ত শেখদের যৌনদাসী হিসাবে বিক্রি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদে। লাশ হয়ে ফিরছে নাজমার মত বোনেরা।
এদেশের আমলাতান্ত্রিক পুঁজিপতি, বড় ধনী-ধনীরা হলো দুনিয়ার নির্মমতম শোষক শ্রেণী। শোষণ-নিপীড়নে বৃটিশ, পাকিস্তানি শোষক-শাসকদেরও আজ তারা হার মানিয়েছে। অতিধনীদের উন্নয়নে উড়ন্ত গতির বিপরীতে তারা জনজীবনের সংকট বাড়িয়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে জনবিক্ষোভও বাড়ছে। কিন্তু তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে জনবিক্ষোভ দমন ছাড়া তাদের পথ নেই। একারণেই এ অতিধনীরা ভারতের নির্দেশনায় ও সাম্রাজ্যবাদের সহযোগীতায় নগ্নভাবে কায়েম করেছে আজকের নির্মম শাসন- আওয়ামী ফ্যাসিবাদ।
গণবিচ্ছিন্ন এ ফ্যাসিস্ট শক্তি খোলাখুলিভাবে বন্দুক তথা পুলিশ, র্যাব, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপর নির্ভর করছে, আইনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করছে সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে। শুধু তাই নয়, এ দুঃশাসনের সামাজিক ভিত্তি হিসাবে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় পড়ায়-মহল্লায়-পেশা-প্রতিষ্ঠানে দলদাস ফ্যাসিস্টচক্র গড়ে তোলা হয়েছে। নিরঙ্কুশ ক্ষমতাবলে এ ফ্যাসিস্টচক্র পাহাড় হতে সমতলে সর্বত্র খুন-ধর্ষণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতির নৈরাজ্য তৈরী করেছে। এমনকি গণবিরোধী ও দেশবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের কারণে যে কাউকে আবরারের মত পিটিয়ে হত্যা করছে। আবার এসব দমনপীড়ণের “ন্যায্যতা” প্রতিষ্ঠা করছে উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিষ্ঠার নামে!
সুতরাং, এ নির্মম শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আজ বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত!
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বঅর্থনীতির সংকটের কারণে বাংলাদেশের মত দেশে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো ক্ষমতা দখল করছে। তার বিপরীতে চিলি, ইকুয়েডর, ইরাক, লেবানন, হংকংসহ দেশে দেশে নতুন গণউত্থানের ঢেউ আছড়ে পরছে। বাংলাদেশেও অতিধনীদের শোষণ-লুন্ঠনের সংকটের ফলে আজ জনবিক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের দ্বন্দ্ব কীভাবে তীক্ষ্ণতর হচ্ছে তার প্রকাশ ঘটছে জনগণের চনমনে তৎপরতায়। সমাজের নানা শক্তি গুরুত্ব ও উৎসাহের সাথে নিজেদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করছে। অবদমিত ছাত্র, শ্রমিকরা রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র আন্দোলনে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে ফ্যাসিস্টরা। এসবই আরো বৃহত্তর সম্ভাবনার লক্ষণ। জনগণের সকল সংগ্রাম শেষপর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শক্তিরই মুখোমুখি হবে। তাই, আগামী দিনের সকল সংগ্রাম মিলিত হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের মোহনায়। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী এক গণউত্থান অবস্যম্ভাবী।
আগুয়ান সে জনসংগ্রামের ঢেউ বিপ্লবী পথে পরিচালনা না করতে পারলে জনগণের আত্মবলিদান অতীতের মত আবারো ব্যর্থ হবে। কাজেই ওঁত পেতে থাকা আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের বিশ্বঘাতকতার পথ কিংবা মধ্য শ্রেণীর লেজুড়বাদী-সংস্কারবাদী পথকে নাকচ করে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবী পথে জনগণের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আজ হাজির হয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বার্ষিকীতে আসন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণউত্থানকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের বিপ্লবী পথে পরিচালনার জন্য আমরা দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করছি।
গণমঞ্চের সকল সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য, নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি জনগণের সংগ্রামকে বিপ্লবী দিশায় এগিয়ে নিতে বিপ্লবী সক্রিয়তা প্রদর্শন করুন।
এদেশের বিপ্লবী ও ফ্যাসীবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি ও সংগঠনের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন, আসন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামকে বিপ্লবী দিশায় পরিচালিত করতে নেতৃত্ব দেবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের সংগ্রামী উত্থান ও বিজয় নিশ্চিত করে কায়েম করি- শ্রমিক কৃষক জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
(সভাপতি মাসুদ খান ও সাধারণ সম্পাদক আদিত্য মাহমুদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত)

