শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর ন্যায়সঙ্গত রক্তাক্ত সংগ্রামের গর্ভেই জন্ম নিয়েছে মহান মে দিবস
আজ থেকে ২০০ বছর আগে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াতেও শ্রমিকদের ১২ /১৪/ ১৬ এমনকি ১৮ ঘন্টা খাটানো হত। ক্রমে এসব দেশে শ্রমিকরা মানুষের মত বাঁচার জন্য ৮ ঘন্টা শ্রম-৮ ঘন্টা বিশ্রাম এবং ৮ ঘন্টা অবসর-বিনোদনের দাবীতে আন্দোলন-ধর্মঘট শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ১৩২ বছর আগে ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে শ্রমিক সংগঠনগুলো আট ঘন্টা কর্মদিবসের দাবীতে এক ধর্মঘটের ডাক দেয়। ৪ মে, হে মার্কেটের সামনে ধর্মঘটী শ্রমিকদের সমাবেশে চলাকালে মালিকের টাকা খেয়ে পুলিশ নিজেই বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সাথে লড়াই বেধে যায় এবং সাতজন পুলিশ নিহত ও চার জন শ্রমিক শহীদ হন। এ ঘটনার জের ধরে মালিক বা বুর্জোয়া শ্রেণীর রাষ্ট্র সংগ্রামী শ্রমিক নেতাদের কারাগারে নিক্ষেপ করে আর পার্সনস, স্পাইজ, ফিসার ও এঙ্গেলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনা সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রেণীকে মালিক শ্রেণীর শোষণ-নিপীড়ন ও শ্রমদাসত্বের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলে। আন্দোলন-ধর্মঘট সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। শেষে মালিক শ্রেণীর রাষ্ট্র ৮ ঘন্টা কর্মদিবসের আইন করতে বাধ্য হয়। ১৮৮৯ সালে শ্রমিক শ্রেণীর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠন দ্বিতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক পহেলা মে-কে শ্রমিকদের আন্তর্জাতিকভাবে বিক্ষোভের দিন হিসাবে নির্ধারণ করে।
মালিক শ্রেণী ও তার দালালদের পহেলা মে-র উৎসব বর্জন করুন! যথাযথ মর্যাদায় “মহান মে দিবস” উদযাপন করুন!
মহান মে দিবস মালিক শ্রেণীর শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণী ন্যায়সঙ্গত রক্তাক্ত সংগ্রামের চেতনায় উজ্জ্বল এক দিবস। পহেলা মে তাই ১লা বৈশাখ. ১ জানুয়ারির মত উৎসবের দিন নয়। এ দিবস ‘মা দিবস’, ‘বাবা দিবস’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’-এর মত সম্প্রীতির দিবসও নয়। পহেলা মে- সারা দুনিয়ার মালিক শ্রেণীর শোষণ– নিপীড়ন-শ্রমদাসত্বের বিরুদ্ধে– সারা দুনিয়ার সর্বহারা শ্রেণী একতা ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন- সম্মিলিত কণ্ঠে সংগ্রামের আওয়াজ তোলার দিন- শপথ নেয়ার দিন। মালিকরা তাই মহান মে দিবস-কে ভয় পায়। তাই তারা শ্রমিকদের অন্ধ ও বধির করে রাখতে মে দিবসের মর্মকথা ভুলিয়ে দিতে চায়। এজন্য তারা এদিনটিকে মালিক-শ্রমিকের ঐক্যের দিনে, ধুমধারাক্কা উৎসবের দিনে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাই প্রতিটি সচেতন শ্রমিকের আজ কর্তব্য মালিকের ধোঁকাবাজিকে উন্মোচন করা; মালিক শ্রেণীর ধুমধারাক্কা উৎসব বর্জন করা এবং যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস উদযাপন করা। আমাদের আরো কর্তব্য মালিক শ্রেণীর দালাল শ্রমিক সংগঠন বর্জন করে শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থরক্ষাকারী, সুশৃঙ্খল, লড়াকু বিপ্লবী ধারার একটিমাত্র ট্রেডইউনিয়ন সংগঠন গড়ে তোলা।
ন্যুনতম মানবিক-জীবনযাত্রা উপযোগী মজুরি, আট ঘন্টা কর্মদিবস এবং সংগঠন-সমাবেশ-মতপ্রকাশ করার স্বাধীনতাসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবীতে সংগ্রাম বেগবান করুন!
বিশ্বব্যাপী শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রামের কারণে ন্যুনতম মানবিক মজুরিসহ ৮ঘন্টা কর্মদিবসের ন্যায্যতা সারা দুনিয়ার মালিক বুর্জোয়া শ্রেণী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। মালিক বা বুর্জোয়ারা উৎপাদন খরচের হিসাবেই তাদের পণ্যের দাম নির্ধারণ করে। তারাই বলে, শ্রমিকের বিক্রিযোগ্য পণ্য হলো শ্রম। সুতরাং ন্যুনতম খরচে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত বস্ত্র, স্বাস্থকর ঘর, চিকিৎসা, সাধারণ শিক্ষা ও অবসর/বিনোদনসহ একজন অদক্ষ শ্রমিকের পরিবার নিয়ে ন্যুনতম জীবনধারণের জন্য যে খরচ লাগে, তা-ই তার পণ্যের (শ্রমের) উৎপাদন খরচ। সুতরাং শ্রমের দাম বা মজুরি হতে হবে ঐ খরচেরই সমান।
২০১৩ সালের এক হিসাবে গার্মেন্ট শ্রমিকের ন্যুনতম মানবিক-জীবনযাত্রা উপযোগী মজুরি হওয়ার কথা ২১,৫০০ টাকা, মূল্যস্ফীতির হিসাবে বর্তমানে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬,৫০০ হতে ২৮,৫০০ হাজার টাকা। আর গত ৮ বছরে জিডিপি দ্বিগুণ হয়েছে। তাতে জীবনযাত্রার যে মানোন্নয়ন ঘটেছে তার হিসাব ধরলে– এ মজুরি হওয়া উচিত আরও বেশি। কিন্তু ২০১৩ সালে মালিকরা ন্যুনতম মজুরি দিত ৩০০০ টাকা; যা আন্দোলনের কারণে ৫,৩০০ টাকা করতে বাধ্য হয়। এতে এই মজুরি, ন্যুনতম মানবিক মজুরির মাত্র ১৪% হতে বেড়ে ২৫% মত দাঁড়ায়। কিন্তু ৫ বছর পর এখন তা নেমে এসেছে ১৯ শতাংশে। এ মজুরি দুনিয়ার সবচেয়ে কম।
এ মজুরিতে বেঁচে থাকাই কষ্টকর। ফলে মালিকদের আর বেআইনীভাবে বা জবরদস্তি শ্রমিকদের অতিরিক্ত ঘন্টা খাটাতে হয় না। জীবন বাঁচাতে ৭-৯ হাজার টাকা অর্থাৎ মানবিক মজুরির মাত্র এক তৃতীয়াংশ হলেও অর্জনের জন্য এদেশের শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় সপ্তাহের ছুটিরদিনসহ প্রতিদিন ২ থেকে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত ওভারটাইম করে। এভাবে কার্যত মানবিক মজুরির মাত্র মাত্র ৩০/৪০ শতাংশ দিয়েই মালিকরা শ্রমিকদের সপ্তাহিক ছটির দিনে ৮ ঘন্টাসহ প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪ ঘন্টা খাটিয়ে নেয়। তাই আট ঘন্টা কর্মদিবস আইনগতভাবে বাংলাদেশে স্বীকৃত হলেও কার্যত এটা একটা ভয়ঙ্কর তামাশাই পরিণত হয়েছে।
মালিক বুর্জোয়া শ্রেণী তাদের পণ্য পাঁচ পয়সা লোকসানে বিক্রিতে কখনো রাজী নয়। আজ ৪ হাজার মালিক পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। অথচ গরীব শ্রমিকের শ্রমের দামে ৮০ থেকে ৮৬ শতাংশ ঠকিয়ে, অতিরিক্ত কর্মঘন্টা খাটতে বাধ্য করে ৪০ লক্ষ শ্রমিককে পশুর চেয়েও অধম জীবনযাপনে ঠেলে দেয়া হবে কেন?
এখানে উদাহরণ হিসাবে গার্মেন্ট শ্রমিকদের কথা বলা হলেও, এ তীব্র শোষণ, ভয়ানক অবিচার দেশের সকল শ্রমিক, মেহনতি ও কৃষকদের উপরই নানাভাবে চলছে। এ ভয়াবহ শোষণের হাত থেকে বাঁচার আশাতেই আজ এদেশের ১ কোটি সন্তান প্রবাসে পারি দিতে বাধ্য হয়েছে। যাদের অনেকের ঠাঁই হয়েছে সাগরের বুকে অথবা গণকবরে। বেঁচে যাওয়াদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে দাস-দাসীর জীবন।
মানুষের ইতিহাস হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ইতিহাস। কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা মাঝে মাঝে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেও তাদের সংগঠিত হয়ে আন্দোলন-ধর্মঘট করার কোন অধিকার বাস্তবে নেই। কারণ ট্রেড ইউনিয়ন করা দূরে থাক, সামান্য প্রতিবাদ করলেই চাকুরিচ্যুতি, হামলা, মামলা, এমন কি হত্যা শিকার হতে হয়। অথচ ন্যুনতম মানবিক মজুরিসহ আটঘন্টা কর্মদিবসের ন্যায়সঙ্গত অধিকার অর্জন করতে হলে মালিকের দয়ার উপর নির্ভর করা যেমন বোকামী তেমনি একা শ্রমিক অসংগঠিত শ্রমিক কিছুই করতে সক্ষম নয়। তাই কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, সকলের স্বার্থ রক্ষার ভেতর দিয়েই নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষার জন্য, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন– শ্রমিকদের সংগঠন তৈরী করে সম্মিলিত সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালাল বুর্জোয়াদের ফ্যাসিস্ট বিদ্যমান শাসন উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি-দেশপ্রেমিক জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম গড়ে তুলুন।
আমরা এ আলোচনা সর্ববৃহৎ শ্রমখাতকে ঘিরে করছি, কারণ এটা সমগ্র সমাজের চেহারাকে এক মূর্ত করে তুলতে পারে। আমারা দেখি, এদেশের মালিকরা হলো বিদেশী পোশাক কোম্পানীগুলোর দেশীয় দালাল। ব্যবসার নিয়ম অনুযায়ি যে বা যারা সবচেয়ে সস্তায় কাজ করে দেয়, সেই কাজের অর্ডার পায়। তাই সাপ্লাই অর্ডার ধরার জন্য এদেশীয় মালিকরা অন্যান্য দেশের দালাল মালিকদের সাথে তীব্র প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়। এভাবে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিযোগীতার কারণে উৎপাদন খরচ কমাতে গিয়ে এরা শ্রমিকের মজুরি যতটা সম্ভব কমাবার চেষ্টা করে। এজন্য শ্রমিককে পশুর চেয়েও অধম জীবন-যাপনে বাধ্য করে, এমন কি শ্রমিকের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে। এরই ফলে একবিংশ শতকে এসে সৃষ্টি হয় রানাপ্লাজা, তাজরিন, স্পেকট্রামের মত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শিল্প গণহত্যাগুলো।
গুটিকয়েক মালিক বা বুর্জোয়ারা এ শোষণ-নির্যাতন চালিয়ে যেতে পারছে কারণ তাদের হাতে আছে শিল্পপুলিশ-পুলিশ-র্যাব-গোয়েন্দা সংস্থা-সেনাবাহিনী, আইন-আদালত, জেলখানা, প্রশাসনসহ সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র। মালিকদের হাতে আরো আছে রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃত্বে পরিচালিত গুন্ডা বাহিনী; যারা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। রাষ্ট্রের আইন শ্রমিক-জনগণের উপর খড়্গ হস্ত হলেও মালিকদের ক্ষেত্রে ‘হাজার খুন’ মাফ।
রানাপ্লাজার রানা ছিল স্থানীয় এমপি ও রাজনৈতিক দলের নেতা, অস্ত্রধারী গুন্ডা ও মাদক-কারবারী। সে তার দলবল নিয়ে শ্রমিকদের জোর করে, ভয় দেখিয়ে ফাটল ধরা কারখানায় ঢুকতে বাধ্য করেছিল। এতে কী দিনের আলোর মত পরিষ্কার নয় যে, বর্তমান ভোটসর্বস্ব সংসদীয় রাজনীতি শ্রমিক-জনগণের উপর এক নৃশংস ফ্যাসিবাদী শাসন ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়? আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত-জাতীয় পার্টিসহ দুই জোটের দলগুলো মূলত বিদেশী শক্তির দালাল মালিক শ্রেণীর নেতৃত্বে গঠিত এবং এদেরই স্বার্থ রক্ষা করে। তাই নিজেদের জনগণের দল বলে ভাওতা দিলেও, কোন দলই শ্রমিকের ন্যুনতম জীবনধারণ উপযোগী মজুরিসহ আট ঘন্টা কর্ম দিবসের ন্যায়সঙ্গ অধিকার বাস্তবায়নের আওয়াজ তোলে না। মুদ্রাস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি কমে গেলে, সেটা সমন্বয় করেই নিজেদের শ্রমিক-দরদী সাজার চেষ্টা করে। অপরদিকে শ্রমিকদের যথেচ্ছ শোষণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মালিকদের সর্বপ্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ কেবল মজুরি বৃদ্ধি, আট ঘন্টা কর্ম দিবস ও ট্রেড ইউনিয়নের দাবী তোলাই যথেষ্ট নয়। কারণ এ শোষক-শাসকদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে রেখে আন্দোলন করে কিছু কিছু সুবিধা আদায় করা গেলেও, স্থায়ীভাবে এ দাবী বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। তাই বিদেশী শক্তিগুলোসহ তাদের দালাল শাসক শ্রেণীর ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাত করে, শ্রমিক-কৃষক-জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক সংগ্রামেও শ্রমিক শ্রেণীকে আজ এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য শ্রমিক শ্রেণীকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক দলের পতাকা তলে সংগঠিত হতে হবে। এ লড়াইয়ে জিততে হলে শ্রমিক শ্রেণীকে জোট বাঁধতে হবে, নেতৃত্ব দিতে হবে বিদেশী শক্তি ও তার দালালদের দ্বারা নিপীড়িত এদেশের ব্যাপক কৃষক, মেহনতি এবং দেশপ্রেমিক জনগণের সাথেও। এবং নিশ্চয়ই বিনা-যুদ্ধে, স্রেফ ভোট-ব্যালটে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ নৃসংশ শাসক শ্রেণী মসনদ ছেড়ে যাবে না। তাদের ক্ষমতার মূল হাতিয়ার ঐ রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকার্যকর করে জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে নিতে– প্রয়োজন হবে বিপ্লবী বলপ্রয়োগের।
শ্রমদাসত্ব থেকে মুক্ত, শ্রেণীহীন-শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলুন
বিশ্ব পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালরা বাংলাদেশের মত বিশ্বের দেশে দেশে শোষণ-নির্যাতন চালাচ্ছে। এমন কি তাদের বিবাদমান ব্লকগুলো বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সম্পদ দখল, সস্তা শ্রম শোষণের সুযোগসহ ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক আধিপত্য রক্ষার জন্য যুদ্ধ-বিগ্রহ চাপিয়ে দিচ্ছে। এমন কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা সিরিয়াসহ আরবে, বার্মা, পেরু, ভারত, ফিলিপাইনসহ দেশে দেশে গণহত্যা চালাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করছে। তাই এদেশ থেকে বিদেশী শক্তি ও তার দালালদের উৎখাতের সংগ্রাম– সাম্রাজ্যবাদকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে দেয়ার সংগ্রামের সাথে অবিচ্ছেদ্য। আর এ সংগ্রামে আমাদের মিলিত হতে হবে সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রেণী, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সাথে। এ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীকে এগিয়ে যেতে হবে আরো সামনে। তাকে এগিয়ে যেতে হবে শ্রমদাসত্বের অবসান, শ্রেণীহীন-শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে।
২৮ এপ্রিল ২০১৮

