বিপ্লবীদের আশু কর্তব্য

আগামী দিনের সংগ্রাম হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম। কিন্তু এ সংগ্রামের তিনটি পথ আছে। আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া শ্রেণীর বিশ্বাসঘাতকতার পথ, মধ্য শ্রেণীর লেজুড়বাদী-সংস্কারবাদী পথ আর শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী পথ। তাই ভ্রান্ত পথ পরিহার করে, শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই অবিলম্বে কাজ শুরু করতে হবে।

এ সংগ্রামে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হবে প্রধান টার্গেট, ক্ষমতাবহির্ভূত বড় বুর্জোয়া শ্রেণী এ আন্দোলনের নেতৃত্ব কব্জা করতে চাইবে। সুতরাং, তাদের ইনকনসিস্ট্যান্সির মুখোস উন্মোচন করতে হবে। মধ্যবিত্তরা যারা বড় বুর্জোয়ার দিকে ঝুঁকে রয়েছে, তাদের একাংশকে নিরপেক্ষ এবং একাংশকে জয় করে নিতে হবে। আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ও শ্রমিক-কৃষকের ঐক্যের ভিত্তিতে।।

বিপ্লবী তত্ত্ব ছাড়া বিপ্লব হয় না, বিপ্লবী তত্ত্বের ভিত্তিতে একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এগুবেনা। কারণ, এটা শান্তিপূর্ণ বিকাশের কাল নয়। লড়াইয়ে জিততে হলে পার্টিকে শ্রমিক শ্রেণীর গণপার্টি হয়ে উঠতে হবে। সুতরাং, শ্রমিকদের শ্রেণী হিসাবে জাগরিত ও সংঘবদ্ধ করে তুলতে হবে। লক্ষ্য করবেন, এ নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেও দেশের শ্রমিক শ্রেণী দৃঢ়ভাবে রাজপথ প্রকম্পিত করেছে। সুতরাং, এ সম্ভবানাকে পুরোপুরি বিকশিত করতে হবে এখনই। এ প্রশ্নটি সংগ্রামে বিজয়ের প্রাথমিক শর্ত। নতুবা আবারো জনগণের সংগ্রামের ফসল শত্রুর গোলায় উঠবে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, মজুরি, জমি ও জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্নকে ফোকাসে রেখে প্রচার ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যার লক্ষ্য হবে সংসদীয় ফ্যাসিবাদ উচ্ছেদ করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।।

এজন্য, একদিকে কমিউনিস্ট, সোশ্যাল ডেমোক্রাট এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোসহ শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যফ্রন্টকে জোরদার করতে হবে। অন্যদিকে কৃষক, পেটি বুর্জোয়া, মধ্য বুর্জোয়াদের দল ও সংগঠনকে নিয়ে একটি ব্যাপকতম ফ্যাসিবাদবিরোধী গণফ্রন্ট গড়ে তুলতে হবে।।

বলাবাহুল্য, এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে ফ্যাসিস্টরা এগুতে দেবেনা।

কমরেড, পথ তা যত মসৃনই হোক, ভুল হলে আপনাকে গন্তব্যে নেবে না। আর পথ যত বন্ধুরই হোক, ঠিক হলে গন্তব্যেই পৌঁছে দেবে। আসুন, আমরা সঠিক রণকৌশলের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন