আত্মপ্রকাশ

বার বার কঠোর সংগ্রাম ও অপরিসীম আত্মত্যাগ সত্ত্বেও, এখনও বাংলাদেশের জনগণ তাদের একটি স্বাধীন-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। সে কারণেই এদেশ, জাতি ও জনগণ সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদের কাছে পরাধীনতার নতুন রূপে আবদ্ধ হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আধিপত্য ও সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আর পশ্চাদপদ সামন্তবাদী ব্যবস্থা, অনুন্নয়নের যাঁতাকলে নতুন নতুন আদলে পিষ্ট হয়ে চলেছে। সুতরাং জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ জনগণের উপর চলমান নির্মম শোষণ-লুণ্ঠন ও ফ্যাসিবাদী নিপীড়ন অবসানের জন্য সকল ধরনের উপনিবেশিক ও সামন্তীয় শোষণ উচ্ছেদের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবে। সে উদ্দেশ্যে সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ এবং তাদের দালাল আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদকে উৎখাতের জন্য জাতীয় বিশ্বাসঘাতক বর্তমান সরকারসহ সকল বিশ্বাসঘাতকদের উচ্ছেদ করবে। একটি উন্নত সমাজ, প্রগতিশীল, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সংবিধান ও সরকার প্রতিষ্ঠার অসমাপ্ত বিপ্লবী কর্তব্য সম্পন্ন করবে। প্রতিষ্ঠা করবে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, শান্তি পূর্ণ, নিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল প্রজাতন্ত্র।

জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ-এর কর্মসূচী হচ্ছে বাংলাদেশের সামাজিক বিকাশের জন্য দায়ী মৌলিক দ্বন্দ্বসমূহের সমাধান করা এবং স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ যেহেতু সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ এবং সামন্তবাদ দ্বারা শোষিত ও নিপীড়িত; তাই বিপ্লবের প্রথমে রয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক স্তর।

একটি উন্নত, প্রগতিশীল, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, সংবিধান ও সরকার প্রতিষ্ঠার অসমাপ্ত বিপ্লবী কর্তব্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে –

 ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’ গঠিত

৩৫ বছরের শোষণ-নিপীড়ন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে অর্থনৈতিক সংকট যখন চরমে পৌঁছে, প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলোর মধ্যকার হানাহানি গভীর সংকটের জন্ম দেয়, যখন এদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচার তাগিদে শ্রমিক, কৃষক জনগণ বিদ্রোহ করতে শুরু করে, তখন প্রতিক্রিয়াশীলদের শোষণ ও নিপীড়নমূলক শাসন ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। আর ঠিক তখন এক/এগারোর ক্যু দেতা সংঘটিত হয়।

সিভিল পোষাকে এই সামরিক অভ্যূত্থান ঘটে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের আশীর্বাদে বিশেষতঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নীলনকশা ও নির্দেশে। এভাবে সাম্রাজ্যবাদ তার কেনা গোলামদের সাহায্যে ভঙ্গুর শোষণ-নিপীড়নমূলক ব্যবস্থাটাকে রক্ষা ও মেরামত করার জন্য নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করে। জারি করে জরুরী অবস্থা।

দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণের আকুতিকে প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার কণ্ঠে কোন রাজনৈতিক দলকে উঠে দাঁড়াতে দেখা গেল না। দেশ ও জাতির প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা, জনগণকে সংগ্রামের দিশা দেখাবার মত কোন রাজনৈতিক শক্তি দৃশ্যমান হলো না। এদেশের গণরাজনীতির দুঃখজনক দুর্দশা এতে প্রকাশ পেয়েছে। একটি ক্ষুদ্র অংশের অনুচ্চকণ্ঠের প্রতিবাদ ছাড়া, ডান-বাম সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ সরকারের লেজ ধরে মতায় যেতে চেয়েছে, কেউ আত্মরক্ষা ও ক্ষমতা ভাগের দরকষাকষি করেছে আর কেউ থেকেছে নিশ্চুপ। এখন এদের অধিকাংশ নির্বাচনের সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত। এই ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালে জাতি ও জনগণের সামনে যথাযথ রাজনৈতিক দিশা হাজির করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাজ। কেননা একটি সঠিক দিশার ভিত্তিতেই জনগণের সংগ্রাম বেগবান হওয়ার পথ পায়, জাতি ও জনগণের মুক্তির সংগ্রাম এগিয়ে যায়। এমন এক ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক শূণ্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উদ্যোক্তাদের পক্ষে “জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ” গঠন করা অনিবার্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

আজ বাংলাদেশের (পূর্ববাংলার) বিভিন্ন দেশপ্রেমিক শ্রেণী, স্তর, গোষ্ঠী, ব্যক্তি, দল, জাতিগত, ধর্মীয় এবং ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগণ অর্থাৎ দেশের সমগ্র জনগণ মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে তাদের বিশ্বস্ত সামরিক বাহিনীর ক্যুদেতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত উপদেষ্টা সরকারের বিচার দাবী করেন। জনগণ ১/১১-র পূর্বেকার চারদলীয় জোট ও মহাজোটের দুঃশাসনে ফিরে যেতে চান না। জনগণ সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের অশুভ মিলনজাত নীলনকশার পাতানো নির্বাচন ও তদ্জাত অবৈধ   সরকারেরও উচ্ছেদ   কামনা করেন। এককথায়, সমগ্র জনগণ, শাসকশ্রেণীর রাজনীতি ও ক্ষমতার উচ্ছেদ কামনা করছেন। জনগণ এদের উৎখাতের লক্ষ্যে নানারূপে সংগ্রাম করছেন। কিন্তু, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে জনগণের সংগ্রাম বিকশিত হতে পারছেনা। জনগণ চান এমন একটা নেতৃত্ব যা তাদের সংগ্রামকে সঠিক পথে পরিচালনা করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম ।

তারা আরো আশা করেন, এ নেতৃত্ব হবে এমন একটি সংগঠন যা এদেশের সকল দেশপ্রেমিক শ্রেণী, স্তর, ব্যক্তি, দল, জাতিগত, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগণের প্রতিনিধি সম্বলিত। জনগনের এ আশা-আকাঙ্খা বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে জনগণের বিভিন্ন দেশপ্রেমিক অংশের প্রতিনিধিরা এরূপ একটি সংগঠন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সংগঠনের নাম রাখা হয় ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’।

গত ৭ নভেম্বর ২০০৮ প্রাথমিকভাবে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’-কে সারা দেশব্যাপী সংগঠিত করা এবং অস্থায়ীভাবে এর কার্যপরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। তরুণ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ মাসুদ খানকে সর্বসম্মতিক্রমে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’-র আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন