শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ বহু বছর ধরে ২ জানুযারি কমরেড সিরাজ সিকদারের শহীদ দিবস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপে আয়োজন করে এসেছে। এ বছর তাঁর ৫০তম শহীদ দিবস। কিন্তু ছাত্রদের পোশাকে এক বিশেষগোষ্ঠীর বাধার কারণে কর্তৃপক্ষ জায়গাটা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে বরাবর। এবারো সদ্য ক্ষমতা-পাওয়া এক বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা ছাত্রের পোশাকে, ছাত্রদের নামে পপুলিস্ট দাবির আড়ালে তাদের রাজনৈতিক দখল নিরঙ্কুশ করার গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছে। আর এসবই হচ্ছে রাষ্ট্র, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে।

আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক বিবেচনার আহ্বান জানাবো যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার্থীদের সম্পত্তি না, এটা জনগণের টাকাতেই চলে- তার চেয়ে বড় কথা, জাতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বৃহত্তর জনসাধারণে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রবারংবার একাকার হওয়া ও কেন্দ্র হয়ে ওঠার ইতিহাস- একে জনগণের “তীর্থস্থানে” পরিণত করেছে। এই গণসংযুক্তির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের শত্রুদের জন্য সবসসয় এক আতঙ্কের নাম। তাই গণশত্রুরা ঢাবিকে বরাবর গণবিযুক্ত ও গণবিমুখ করতে চেয়েছে এবং চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। ঢাবি শিক্ষার্থীদের গৌরবের ইতিহাস এখানেই যে তারা কখনো সঙ্কীর্ণ স্বার্থে বন্দী থাকেনি, বৃহত্তর স্বার্থে বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে। আশাকরি, আপনারা সস্তা পপুলিস্ট দাবির আড়ালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গণবিচ্ছিন্ন করা, মুক্ত পরিবেশ ধ্বংস করে কারাগারে পরিণত করার চক্রান্ত উপলব্ধি করবেন। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, এই রাজনৈতিক শক্তি অতীতেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কারাগার তৈরি করেছিল কিনা এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের কি পরিণতি ঘটেছিল। পরিস্থিতি অনুধাবন করতে সক্ষম হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট- এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন