রাষ্ট্র ও সরকারের শ্রেণী চরিত্র বিশ্লেষণ করুনমোহমুক্ত হোন

RAB, পুলিশ, শিল্প পুলিশ, ডিবি, ডিজিএফআই, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ গোটা আমলাতন্ত্র বলপ্রয়োগে হাসিনার ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনকে বলবৎ করেছে। এই গোটা উপনিবেশিক আমলাাতন্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রেরই ফ্যাসিকরণ ঘটেছিল, একটি সংগঠিত অপরাধীচক্রে পরিণত হয়েছিল। এই ফ্যাসিস্ট, ক্রিমিনালাইজড উপনিবেশিক পুরোনো রাষ্ট্রযন্ত্র নিজগুণেই অবৈধ শক্তিতে পরিণত হয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙক্ষা ছিল এই রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্পূর্ণ বিলোপ এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা যার কাজ হবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবেলা করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা করা।

ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও জনগণের হাতে ক্ষমতা আসেনি। অসংগঠিত স্বতঃস্ফূর্ত জনগণের পক্ষে তা সম্ভবও ছিল না। ফলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোনো রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড সামরিক আমলাতন্ত্রের সাহায্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তাদের সহায়তায় মার্কিন মদদপুষ্ট উগ্রডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যুক্ত ছাত্র নেতাদের মাধ্যমে ‘তৃতীয় শক্তি’-র সরকার প্রতিষ্ঠিত করে।

তাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল এই রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে উপনিবেশিক, আমলাতান্ত্রিক, ফ্যাসিস্ট ও ক্রিমিনালাইজড রাষ্ট্রের বিলোপ ও নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং এই রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর ভর করেই তারা চলছে। সুতরাং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে তারা বাধ্য। তারা কেবল দানবীয় রাষ্ট্রের নগ্নতা ঢাকতে নতুন পোশাক তৈরী করছে। এদের এই সংস্কার মার্কিন ও ভারতের দলালদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে একটা সম্পদ, শোষণ-লুণ্ঠন আর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস মাত্র।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন