মারফতি গান বন্ধ করে মাজারভাঙ্গা, প্রথম আলোর সামনে গরু জবাই, গ্রাফিতি মুছতে বাধ্য করা, আদিবাসীদের প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে পিটিয়ে পাথা ফাটানো, সেই হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে মাহফুজ সাহেবদের পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান, বেধড়ক লাঠিপেটা করা, একটা ফেসবুক পোস্টের উসিলায় সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি মোছা, সিলেটে রিসোর্টে ঘুরতে আসা ২০ জন তরুণ-তরুণীদের জোর করে বিয়ে দেয়া— এগুলি ভারতীয় এজেন্টদের কাজ? ধর্মবাদীদের উসকে দেয়ার মত কোন কাজটা বামপন্থীরা, আদিবাসীরা করেছে যে, তাদের ওপর ভারতীয় হাসিনা ফ্যাসিবাদী সেক্যুলার কালচারাল ওয়ার শুরু বা শাহবাগ-শাপলা বিভাজনের দায়টা চাপানো হচ্ছে? বেতন না পাওয়া শ্রমিকদের আন্দোলন, ভ্যাটবৃদ্ধির প্রতিবাদও ভারতের সেক্যুলার এজেন্টদের কাজ?
এইসব অভিযোগের সাথে সত্যের ছিঁটে ফোঁটা সম্পর্কও নেই।
মাহফুজ সাহেবের বক্তব্য সুচতুর, তিনি জাজ্বল্যমান উগ্রডানপন্থী ফ্যাসিবাদের উত্থানকে অস্বীকার করতে পারছেন না, কিন্তু এর দায় ভিকটিমদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন- ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আড়ালে। হাসিনা ফ্যাসিবাদ ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি” আর “মৌলবাদের’ জুজু দেখিয়ে ভিক্টিম ব্লেইম করেছে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হেলমেট বাহিনীকে তাদের দমন-পীড়নকে জাস্টিফাই করেছে। এখন একই কায়দায় মাহফুজ সাহেবরা পতিত ফ্যাসিবাদ আর ভারতের জুজু দেখিয়ে ভিক্টিম ব্লেমিং করছে, ছাত্রলীগের বিকল্প উগ্রডানপন্থী মবক্রেসিকে জাস্টিফাই করছে।
মুসলিম সভ্যতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রকল্প, যার মধ্যেই আছে ফ্যাসিবাদী বিভাজনের বীজ, তার অংশহিসাবে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে নয়, জোটবদ্ধ হয়েছিলেন এই উগ্রডাপন্থী ফ্যাসিবাদী শক্তির সাথে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে মাড়িয়ে তাদের তারা সরকারি ক্ষমতার অংশীদার করেছেন। এটা অস্বীকার করতে পারবেন? এখন নবলব্ধ সরকারি ক্ষমতাকে তারা ব্যবহার করছে এই সব ফ্যাসিবাদী তৎপরতায়। আজ যে উগ্রডানপন্থা মাথা চাড়া দিয়েছে তার দায় মাহফুজ সাহেব এড়িয়ে যেতে চাইছেন, কিন্তু এই দায় তাদের নিতে হবে।
মাহফুজ সাহেবের বক্তব্যে ডানপন্থীদের ফ্যাসিবাদী দাবি-দাওযা, হামলা কিংবা তার পুলিশী হামলাগুলোর কোন প্রতিবাদ বা বিচারের কথা নাই, বরং মুসলিম জাতীয়তাবাদী উগ্রবাদকে “সামাজিক ফ্যাসিবাদ” বলে বায়বীয় করে তুলেছে।

