মার্কিন-ভারতের দালাল সরকার কেবল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে, বাস্তবে দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। বিএনপি, জামাত, এনসিপি-র মধ্যে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রতিযোগিতা চলছে।

পরপর দু’দিন ঢাকা ও ময়মনসিংহে ৬টি গাড়িতে আগুন এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। ময়মনসিংহে ঘুমন্ত গাড়িচালক আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সিসিটিভিতে আগুন লাগাবার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। এগুলো স্পষ্টতই রাজনৈতিক নাশকতা। এই নাশকতার সাথে কারা জড়িত তা জরুরীভাবে সরকারকে উদঘাটন করতে হবে। এই ঘটনা ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রবাসী আওয়ামী লীগারদের ১৩ নভেম্বর হাসিনার রায় কেন্দ্র করে “ঢাকা লকডাউন”, অগ্নিসংযোগের ইঙ্গিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে। অতীতে এসব ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার দিকেও আঙ্গুল তোলা হতো। সুতরাং সরকারকে নাশকতাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় এর দায়িত্ব তাদেরও বহন করতে হবে।

এই নাশকতা প্রমাণ করে, ভারতের দালাল অনুশোচনাহীন গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যথেষ্ট নয়। জামার্মির নাৎসি ও ইতালির ফ্যাসিস্ট পার্টির মত আওয়ামীলীগকেও নিষিদ্ধ করা আবশ্যক। জুলাই উত্তর বাংলাদেশে এটা অন্যতম ন্যায়সঙ্গত গণতান্ত্রিক দাবি। ঠিক যেমন ছিল একাত্তর পরবর্তী জামাত, মুসলিমলীগ, নেযামী ইসলামীর নিষিদ্ধের দাবি।

কিন্তু মার্কিন-ভারতের দালাল সরকার কেবল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে, বাস্তবে দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। বিএনপি, জামাত, এনসিপি-র মধ্যে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রতিযোগিতা চলছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের সকল অপরাধের বিচার ও শাস্তি হবে। তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হবে এবং দল হিসাবে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হবে। এই ফ্যাসিস্ট আদর্শের ভিত্তিতে কোন দল ভবিষ্যতে সংগঠিত হতে পারবে না। যে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অপরাধে যুক্ত হয়নি, তাদের গণতান্ত্রিক শিক্ষা, আত্মসমালোচনা ও রূপান্তরের সুযোগ দেয়াসহ সর্বব্যাপী আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী মতাদর্শগত সংগ্রাম পরিচলনা করা হবে, যাতে জনমানস থেকে এর প্রভাব ধুয়েমুছে যায়।

কিন্তু মার্কিন-ভারতের দালালদের পক্ষে জুলাইয়ের জন আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই তারা জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় বসে; সেই রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে।

জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দরকার হাসিনার মত মার্কিন-ভারতের দালালদের উৎখাত করে শ্রমিক-কৃষক জনগণের সরকার, সংবিধান ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অসমাপ্ত বিপ্লব সম্পন্ন করা। আসুন, সে লক্ষ্যে জোট বাঁধি, তৈরী হই।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন