বাংলাদেশের বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গের বিবৃতি–
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজসহ ২৮ জন মাওবাদী রাজনৈতিক কর্মীর হত্যায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
গত ২১ মে ২০২৫, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার কর্তৃক চালিত সামরিক অভিযান “অপারেশন কাগার”র মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড বাসবরাজসহ ২৮ জন মাওবাদী রাজনৈতিক কর্মীদের। সরকারের ভাষ্যমতে ৫০ ঘন্টার যুদ্ধের পর তথাকথিত এনকাউন্টারে তারা শহিদ হন। আবার বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, অসুস্থ কমরেড বাসবরাজকে চিকিৎসারত অবস্থায় ওড়িশার একটি হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে সেখানেই হত্যা করে এবং ছত্তিসগড়ে ফেলে রেখে যুদ্ধের নাটক সাজায়।
আমরা, বাংলাদেশের বিপ্লবী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠসমূহ, এই হত্যাকাণ্ডসহ অপারেশন কাগারে সংগঠিত বিচার বহির্ভূত রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই নিষ্ঠুর সামরিক অভিযান, যা তথাকথিত মাওবাদী দমন অভিযানের নামে পরিচালিত হচ্ছে, আসলে একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। মাওবাদীদের নেতৃত্বে আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গল রক্ষার আন্দোলন গড়ে উঠে। সরকার তাদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমন করা, আদিবাসীদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা এবং সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষাকারী বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষা করার স্বার্থেই একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারত সরকার ছত্তিশগড়ের অবুজ মাড় অঞ্চলে হাজার হাজার আধা-সামরিক বাহিনী, বিশেষত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) ও সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) মোতায়েন করেছে। এই অঞ্চলটি বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল, যাদের ভূমি প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার এই জনগোষ্ঠী এখন আরও ভয়াবহ সামরিক নিপীড়নের সম্মুখীন। মাওবাদী বিদ্রোহ দমনের নামে রাষ্ট্র তাদের ন্যায্য প্রতিরোধকে নির্মম দমন নীতির মাধ্যমে দমন করছে, যার ফলে নিপীড়িত সাধারণ আদিবাসীরা ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
আমরা, বাংলাদেশের প্রগতিশীল কণ্ঠসমূহ, হিনৃদুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদী সরকার কর্তৃক চালিত সামরিক অভিযান “অপারেশন কাগার” অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাই এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ভারতের আদিবাসী ও নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। বিপ্লবীদের হত্যা করে বিপ্লবী সংগ্রাম ধ্বংস করা যায় না। প্রতিটি মৃত্যুতে নতুন বিপ্লবের বীজ অঙ্কুরোদগম হয়।
আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাই:
১. কমরেড বাসবরাজ সহ সকল মাওবাদী রাজনৈতিক কর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যার অবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
২. জনগণের উপর নামিয়ে আনা এই যুদ্ধ থামাতে অবিলম্বে নাগরিক সমাজের দাবি মেনে শান্তি বার্তার প্রস্তাব মানতে হবে।
৩. অপারেশন কাগার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৪. মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল মাওবাদী নেতা-কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও আদিবাসী নেতাদের মুক্তি দিতে হবে।
৫. আদিবাসীদের স্বশাসন, ভূমির অধিকার এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করার স্বীকৃতি দিতে হবে।
সংগ্রামে ও সংহতিতে,
আনু মুহাম্মদ; সাবেক অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি
আলতাফ পারভেজ, লেখক ও স্বাধীন গবেষক
ফয়জুল হাকিম; সম্পাদক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
মনজুর আল মতিন, আইনজীবী
আরিফুজ্জামান তুহিন,লেখক ও সাংবাদিক
হাসান ফকরী; সভাপতি, শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ
শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ
হারুন-অর-রশিদ; সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা ভাসানী পরিষদ
জাফর হোসেন; সভাপতি, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা
নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা
মাসুদ খান; সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ
জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ
শুভ্রাংশু চক্রবর্তী; সমন্বয়ক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন
সৈয়দ আবুল কালাম ; লেখক ও বুদ্ধিজীবী
আবদুর রব; সদস্য, শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ
বাদল শাহ আলম [সিনিয়র সাংবাদিক], সম্পাদক, খনন, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির কাগজ।
আফজালুল বাশার; পরিচালক, বাঙ্গালা গবেষণা
সৌভিক রেজা; অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যাপক কাজী ফরিদ, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
নাসির উদ্দীন আহমেদ নাসু; আহ্বায়ক, গণমুক্তি ইউনিয়ন
তমিজ উদ্দিন; সাধারণ সম্পাদক, শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ
শিপলু রহমান, নির্বাহী পরিচালক, সিরাজ সিকদার স্টাডি সেন্টার
শামসুল আরিফ ফাহিম; গবেষক এবং এক্টিভিস্ট
রফিক আমিন; কবি
শহীদুল ইসলাম সবুজ; রাজনৈতিক সংগঠক
আনিস রায়হান; লেখক ও সাংবাদিক
তাকসিম খান, এক্টিভিস্ট
রাফসান আহমেদ, চলচ্চিত্রকার
আকরাম খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা
রাফিকুজ্জামান ফরিদ ; সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
রবিউল করিম নান্টু ,ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী।
জামসেদ আনোয়ার তপন, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী
বিপ্লব ভট্টাচার্য্য ; আহ্বায়ক, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন
সালমান সিদ্দিকী; সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
কাজী আবদুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
গোলাম সারওয়ার ; সহযোগী অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ডা. নাজমুস সাকিব , ডেন্টাল সার্জন
সজীব তানভীর , স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা
আশিকুর রহমান অনিক , স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা
ডা. তন্ময় সান্যাল, সম্পাদক লিটল ম্যাগাজিন পোস্টকার্ড
হারুনার রশীদ ভুঁইয়া; সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, কেন্দ্রীয় কমিটি
সীমা দত্ত, সভাপতি, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র
শাহেরীন আরাফাত; সাংবাদিক ও অ্যাকটিভিস্ট
লাবণী মণ্ডল; সাহিত্য সমালোচক ও রাজনৈতিক কর্মী
শাহীনূর আক্তার, চলচ্চিত্রকর্মী
আমেনা আক্তার, বিপ্লবী নারী ফোরাম।
আদনান আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
ফারিয়া জামান নিকি; শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাত্ত্বিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নিউ কমিউনিজম এর সমর্থক
রাশেদ শাহরিয়ার, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট
ফারহানা শারমীন ইমু; স্থপতি, মানবিক সহায়তা কর্মী
জনগণতান্ত্রিক ছাত্র সঙ্ঘ
বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন
ছাত্র গণমঞ্চ
মো. আসলাম, আহ্বায়ক, ছাত্র গণমঞ্চ
আব্দুল মমিন, এক্টিভিস্ট
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, রাজনৈতিক কর্মী
তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, সাংস্কৃতিক কর্মী
ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, এডভোকেট সুপ্রিম কোর্ট
শ্যামল বরন দাশ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আবদুল্লাহ হেল বুবুন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সুবিনয় মুস্তফী ইরন, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, এক্টিভেট রাইটস
নায়িব ইশরাফ খান, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হাসান জামিল ; কবি ও সংবাদকর্মী
আশিক আকবর ; কবি
ম্রিতোষ তত্রাচ ; কবি
সরকার আজিজ ; কবি, সম্পাদক, ময়মনসিংহ জং
সৈকত দে ; কথাসাহিত্যিক
জিয়াবুল ইবন, সহযোগী সম্পাদক, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিষয়ক কাগজ, খনন
মিসবাহ জামিল ; কবি
জুয়েইরিযাহ মউ ; লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
মিলু হাসান ; শিক্ষার্থী ও লেখক
সোয়েব মাহমুদ, কবি
শফিক সাঁই, কবি
নিযাম রাব্বী, শ্রমিক ও র্যাপার

