পপুলিজম থেকে ফ্যাসিবাদ বিকাশের এই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক ও সোচ্চার হোন।

  • ছাত্র গণমঞ্চ

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী, অপরাধীদের উচ্ছেদ করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা দরকারি কাজ। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার কার্যকর উপায় হলো প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা নিশ্চিত করতে সোচ্চার হওয়া এবং শিক্ষার্থী, প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠনের দাবি আদায় করা। এভাবে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা।

কিন্তু শিবির সে পথে গেল না। তারা মাদক কারবারি ও অপরাধী উচ্ছেদের নামে মূলত ক্যাম্পাসের হকারদের উচ্ছেদ করল। অথচ প্রমাণ সাপেক্ষে একজন মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী বা অপরাধীকে তারা কি ধরেছে বা উচ্ছেদ করেছে? না। তাহলে অপরাধীদের উচ্ছেদ করার কার্যকর পথে না গিয়ে কেন শিবির হকার উচ্ছেদ করছে?

এখানে বলে রাখা দরকার, ক্যাম্পাসের হকারদের দ্বারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নের ঘটনা খুব সামান্য। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে যত খুন ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, তাতে শিবিরসহ বড় দলগুলো জড়িত ছিল। এমন কি সর্বশেষ যে যৌন হেনস্তার ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে তা করেছে, ক্ষমতার আশীর্বাদপুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক কর্মচারি, যাকে পুলিশ হেফাজতে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছে ও ছাড়িয়ে আনতে যায় বর্তমান ডাকসু জিএস। ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার প্রশ্ন কেবল হকারদের দিকে কেন ধাবিত হচ্ছে, সেটা বিচার করা দরকার।

এর একটা উদ্দেশ্য পপুলিজম, লক্ষ্য ফ্যাসিজমের বিকাশ । আমাদের দেশে সামরিক সরকারগুলো নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য তৈরীর প্রয়োজনে চুল ছাঁটা, ধুমপানে জরিমানা, মাদকবিরোধী অভিযান ইত্যাদি পপুলিস্ট কাজ করত।  ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে মধ্যবিত্তের মধ্যে শ্রেণী ঘৃণা, বর্ণবাদ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে। কমিউনিস্ট ও গণতান্ত্রিক শক্তি তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। খেযাল করবেন, সর্বমিত্র কেবল হকারদেরই নয়, বামপন্থীদের শ্রেণী সংগ্রামের “শ্রেণী” যে মেহনতি জনগণ, তাদেরও মাদক কারবারি ও অপরাধীতে নামিয়ে এনেছেন। এটা বস্তুত শ্রেণী ঘৃণা ও বর্ণবাদী আচরণেরই প্রকাশ। কিন্তু এই ঘৃণা ও আচরণই প্রিভিলেজড বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য, কারণ তাদের দৃষ্টি ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধার গণ্ডি ছাড়াতে পারে না। এই মধ্য শ্রেণীভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ফ্যাসিবাদ বিকাশের পথে আছে শিবির। মনে রাখবেন, হিটলার,  মুসোলিনি, হাসিনারা বিপুল ভোটে জয় লাভ করেই ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল।

এখানে তাদের সাংগঠনিক উদ্দেশ্যও আছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কব্জায় রাখার জন্য তাদের দরকার যথাসম্ভব গণবিচ্ছিন্নতা। চায়ের দোকানগুলোকে নয়, তাদের লক্ষ্য তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা আড্ডাগুলো। সবদেশেই ক্যাফেগুলোকে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি ভয় পেয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করেছে। হাসিনা ছবির হাট বন্ধ করেছিল এ কারণেই।

বলাবাহুল্য, প্রশাসন অনুমোদিত ক্যাফে ক্যান্টিন তৈরী করে সেগুলো দলীয়করণ করা তাদের এজেন্ডায় থেকে থাকবে। ক্যান্টিন বয় থেকে মালিকানা সবই যাবে জাশির দখলে। এতে দলীয় কর্মী সমর্থকদের অর্থসংস্থান, কর্মসংস্থানতো ঘটবেই, ক্যাম্পাস পরিণত হবে তাদের ঘাঁটিতে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন