ইসলাম ধর্মাবলম্বী ধর্মপ্রাণ জনতা,ইসলামের মহানবী (সাঃ) র আরেক নাম ছিল আল-আমিন বা সত্যবাদী। অথচ দাড়ি, টুপি, জোব্বা পড়া ও মুফতি, খতিব টাইটেলধারী শয়তানটা কী নির্জলা মিথ্যার চর্চাই না করে গেল!

মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মুফতি ও খতিব মহিবুল্লাহ নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা তৈরী করার জন্য এমন মিথ্যা ও অপরাধের আশ্রয় নিয়েছে এই নরকের কীট।

অথচ ঘটনার তদন্ত দাবি না করেই তথাকথিত “তৌহিদী জনতা”কে আমরা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা তৈরীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখলাম। কিন্তু এখন মহিবুল্লাদের হাত থেকে ইসলাম হেফাজতের জন্য  কোন তৌহিদী জনতাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আমরা আগেও বলেছি, পণ্যের বাজার বাড়াতে যেমন ব্যবসায়ীরা বিজ্ঞাপণের আশ্রয় নেয়, তেমনি ধর্ম যাদের রাজনীতি ও ব্যবসা, সেই পিশাচরা ধর্মোন্মাদনার আশ্রয় নেয়। মাজার ভাঙ্গা, মেলা বন্ধ, বাউল-ফকিরদের গান বন্ধ, মেয়েদের খেলা বন্ধ, পোশাক, ভিন্ন ধর্মের লোকের অপরাধ নিয়ে সুযোগ পেলেই এরা ধর্মোন্মাদনা তৈরীর চেষ্টা করছে। মুখ খুললেই তাদের মুখ দিয়ে মিথ্যা কথা বের হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, এসব কথায় উন্মাদনার শিকার হয়ে এক তরুণ তার নিজ দাদীর গর্দান ফেলে দিয়েছে। অথচ এরা নিজেরা যখন মাদ্রাসায় বলাৎকার, ধর্ষণ করে, মসজিদে মারামারি করে, অর্থ আত্মসাৎ, পরকীয়া করে মহীবুল্লাহর মত ধরা পড়ে; তখন তাদের “তৌহিদী জোস” দেখা যায় না। ধর্মের এমন অবামননার বিরুদ্ধে তারা টুঁশব্দটি উচ্চারণ করে না।

বস্তুত এরা সমাজের ক্ষুদ্র একটি ধর্মীয় প্রতারক চক্র, যারা ধর্মীয় ভাবাবেগ উসকে জনগণের সাথে প্রতারণা করে। এর সাথে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্ম চর্চার কোন সম্পর্ক নেই। এদের হাতে ধর্ম বা মানুষ কিছুই নিরাপদ নয়। শান্তির ধর্ম হিসাবে পরিচিত ইসলামের অনুসারিরা নিশ্চয় সমাজে শান্তি ও ধর্মের শান্তিপূর্ণ চর্চা আশা করেন। কিন্তু এই ধর্মীয় প্রতারকচক্র ক্রমাগত শান্তি নষ্ট করছে। এদের বিষয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকেই সতর্ক, সচেতন হতে হবে, গড়ে তুলতে হবে গণ প্রতিরোধ।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন