এদেশের পুঁজির বিশেষত্ব হলো দুনিয়ার সস্তাতম শ্রমে মুনাফা কামানো। শ্রমিক, প্রবাসী, শ্রমিক, কর্মচারি কি শিক্ষক সবার বেতন-মজুরি দুনিয়ার সবচেয়ে কম। আগুনে পুড়ে শ্রমিক মরল কিনা, তা দেখার সুযোগ মালিক শাসক শ্রেণীর নেই।

এই জনগোষ্ঠীকে মুত্যুকূপে সস্তায় শ্রম দিতে বাধ্য করার জন্যই শাসক শ্রেণীকে ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নিতে হয়। স্বভাবতই এই ফ্যাসিবাদী ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সবকিছু একা দখল ও লুঠ করতে চায়। হাসিনা ফ্যাসিবাদ সেটাই করছিল। এতে বিক্ষুব্ধ জনগণের পাশাপাশি শাসক শ্রেণীর দেশি-বিদেশি “বঞ্চিত” অংশও বিরক্ত ছিল। হাসিনা পতনের পর মার্কিন দালাল সেনাসমর্থিত ইন্টারিম সরকার যে সংস্কার, নতুন বন্দোবস্ত বা ইনক্লুসিভ সোসাইটির কথা বলছে ও করছে, তা হলো সস্তা শ্রম লুণ্ঠনে শাসক শ্রেণীর সকল অংশের ইনক্লুসিভ বন্দোবস্ত মাত্র, যাকে তারা নাম দিয়েছে গণতন্ত্র। আর এই সংস্কারের নাম দিয়েছে “বিপ্লব”। কিন্তু শত সংলাপ ও সংস্কারের ফর্দ সত্ত্বেও এই লুটেরাদের নিজেদের মধ্যকার গণতন্ত্রও তাদের টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। কারণ সস্তাতম শ্রমের অর্থনীতি একটা চরম নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা দাবি করে। আর এমন একটা রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালক হিসাবে সরকারি ক্ষমতা ফ্যাসিবাদের দিকে যাত্রা করতে বাধ্য, সময়মত শোষক-লুটেরাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলোও তারা বিসর্জন দিতে কার্পণ্য করবে না। অতীতে এর বিস্তর নজির আছে। সংস্কারবাদ একটা ধোঁকা ছাড়া কিছু ন।

ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে ছেচল্লিশ, ঊনসত্তর, একাত্তর, নব্বই, চব্বিশের সংগ্রাম বিপ্লবী পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট না। প্রয়োজন বিপ্লবী চরিত্রের আন্দোলন। সামনে অনিবার্যভাবে আবারো জনগণের সংগ্রামে ঝড়ো উত্থান ঘটবে। তখন যেন মুক্তিকামী জনতাকে আফসোস করতে না হয়, তার জন্য এখন থেকেই, অবহেলায় সময় নষ্ট না করে, সমস্ত শক্তি কেন্দ্রিভূত করে বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলার পথে সচেতনভাবে অগ্রসর হতে হবে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন