নাদিরা ইয়াসমিন সম্পত্তিতে নারীর সমানাধিকার এবং অভিন্ন পারিবারিক আইনের দাবি করেছিলেন। সকল নাগরিকের সমানাধিকার, সমমর্যাদা তথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য শর্ত। নারী অধিকার আন্দোলন সম্পর্কে অবগত এমন সকলেই জানেন, কেবল নাদিরা নয়, এই দাবিগুলি গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর বহু পুরোনো দাবি। আমরা জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের নারী বিষয়ক কর্মসূচিতেও এই দাবিগুলো আছে।
নাদিরা “হিস্যা” নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেছেন, যেখানে নারীর সমানাধিকার প্রশ্নে নানা মতের মানুষ লিখেছেন। সেখানে ধর্মবিদ্বেষপ্রসূত কোন বক্তব্য নেই। নাদিরা নিজেও ধর্মবিদ্বেষী কোন বক্তব্য কখনো রাখেন নি। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের অধিকারের স্বীকৃতিও গণতন্ত্রের অন্যতম উপাদান। সুতরাং সুসঙ্গত গণতান্ত্রিক ব্যক্তি মাত্রই নারী প্রশ্নে যেমন সমানাধিকার দাবি করেন, তেমনি কোন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করেন না। এক্ষেত্রে নাদিরা একজন সুসঙ্গত গণতান্ত্রিক চেতনার অধিকারী ব্যক্তি।
জুলাই আন্দোলন মূলত ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যের বিপরীতে সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসঙ্গত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তাই নাদিরাসহ গণতান্ত্রিক ব্যক্তি ও সংগঠনের দাবিগুলো জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
কিন্তু আমরা দেখছি, গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী একটি উগ্রধর্মবাদী শক্তি ক্রমাগত জুলাইয়ের চেতনাকে আঘাত করছে। নাদিরার বিরুদ্ধে তারা ধর্মবিদ্বেষের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার ওপর হুমকি তৈরী করেছে।
আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি, সরকার গণতান্ত্রিক সংস্কারের বুলি কপচে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতেই হাঁটছে। উগ্রধর্মবাদীদের মিথ্যা অভিযোগ ও অন্যায় দাবি মেনে নির্দোষ নাদিরাকে বদলির শাস্তি দিয়েছে। এভাবে তারা এই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে ক্রমাগত আস্কারা দিয়েই চলেছে।
আমরা বুঝি যে, এই সরকার এই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কাঁধে ভর করে টিকে আছে, সুতরাং তাদের আচরণ ভিন্নতর হওয়ার কারণ নেই।
আমরা এই অন্যায় পদক্ষেপ এবং সরকারের দ্বিচারিতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বদলির এ অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার ও নাদিরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

