ড. ইউনুস জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোন চিন্তা তাদের নেই।
জাহেদ উর রহমান আজ প্রথম আলোতে লিখেছেন, তিনি মনে করেন, “আইসিটি আইন থেকে সংগঠন কিংবা দলের বিচারের ধারাটি বাদ দিয়ে সরকার আসলে নভেম্বর মাসেই বার্তা দিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের পথে তারা হাঁটছে না। তিনি আরো লিখেছেন, “এটা মোটামুটি প্রকাশিত, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ আছে।”
আসিফ মাহমুদের একটা বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে যে, ড. ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে বাছাই করার ক্ষেত্রে কোন যৌথ সিদ্ধান্ত ছিল না। সেসময় তারা মার্কিন এম্বাসির সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন।
“জয়শঙ্কর জানান, ভারত বাংলাদেশের ভেতরের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলো। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের সাম্প্রতিক বক্তব্যের উল্লেখ করেন। জাতিসংঘ তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিল যে, যদি তারা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।” ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে দেয়া বক্তব্য।
আসলে, জনগণের অভ্যুত্থান যখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দ্বারা ম্যানেজড সেনাবাহিনী ও ড. ইউনুসের নেতৃত্বে তৃতীয় শক্তির করতলে সমর্পন করা হয়েছে, তখনই “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ” হিসাবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়ে গেছে। এর দায় নেতৃত্ব-কুক্ষিগত-রাখা সম্মুখ সারির ছাত্র নেতাদের ওপর বর্তায়। জনগণের বিদ্রোহকে অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে এখন তার লাশ নিয়ে মরাকান্না করে লাভ নেই। ১৯৭১, ১৯৯০ এর ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন একইভাবে ঘটেছিল। এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারতে বলেছিলেন যে, ইনক্লুসিভ নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে ফেরার বিষয়ে মার্কিন-ভারত একযোগে কাজ করবে।
কেবল ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ নয়, মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় এজেন্টদের উৎখাত করা ছাড়া ফ্যাসিবাদ উৎখাত দূর কি বাত, পতিত ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ঠেকানোই অসম্ভব। সুতরাং, মধ্যপন্থী আপোসরফার লাইন বাদ দিয়ে মার্কিন, ভারত ও তাদের তাঁবেদারদের উৎখাতে বিপ্লবী পথে আসুন।

