আমরা কি আবার সেই জঙ্গলের নিয়মে ফেরত যেতে চাই?
আমরা ক্যাম্পাসে কোনো উপদ্রব চাইনা। জনপরিসরে, একাডেমিকভাবে কোন অসদাচরণ, এমনকি শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইন ও বিধিসঙ্গত ব্যবস্থা আমরা চাই। এমন অসদাচরণ ও অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো সচেতন ব্যক্তিমাত্রেরই সামাজিক দায়িত্ব। অভিযোগের তদন্ত এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগও দিতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু তা না করে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে শারীরিক-মানসিকভাবে হেনস্তা করার অর্থ বিচার ও শাস্তি দেয়ার ভার নিজের হাতে তুলে নেয়া। কোন সভ্য সমাজে এটা চলতে পারেনা। তাহলে যে কেউ যে কাউকে হেনস্তা করবার ওপেন লাইসেন্স পাবে। আমাদের প্রত্যেকের জন্য এই ক্যাম্পাস বিপদসঙ্কুল এক জঙ্গলে পরিণত হবে। কে কখন কার শিকারে পরিণত হব, সে আতঙ্ক এক স্থায়ীরূপ নেবে। এই জঙ্গল-নৈরাজ্য এখনভ থামাতে হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোই সন্ত্রাস, দখল, দলীয়করণ, ফ্যাসিকরণের প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে এই ধরনের ক্ষমতা-চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। এভাবে কিছু শিক্ষার্থীদের আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন সন্ত্রাসী হিসাবে তৈরী করেছে। বস্তুত এই মব ভায়োলেন্স পেশিশক্তির দাপটে শিক্ষার্থীদের দাস বানিয়ে ক্যাম্পাসে একাধিপত্য কায়েমের পুরনো রাজনীতি বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করছে। এতো এতো রক্তদানের মাধ্যমে পাওয়া গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা কোনোভাবেই চাই না আবার ছাত্রলীগের মতো দমনকারী শক্তির জন্ম হোক।
আমরা এমন একটা পরিবেশ চাই, যেখানে কেউ অসদাচরণ করবে না, করলে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবে এবং কোনো অযুহাতেই কেউ কাউকে শারিরীক-মানসিকভাবে হেনস্তা বা লাঞ্ছিত করতে পারবে না। কেউ যদি তা করে সেটার বিরুদ্ধেও প্রশাসন যথাবিধি ব্যবস্থা নেবে।
শোভন, নিরাপদ, স্বাধীন এক মুক্তক্যাম্পাসই আমাদের প্রধান দাবী। ফ্যাসিবাদী ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করে আমরা এই মুক্ত ক্যাম্পাস অর্জন করেছি। আমরা শিক্ষার্থীরা এখন নির্ভয়ে কথা বলি। নির্ভার আমাদের চলাফেরা। প্রাণ খুলে আমরা হাসতে পারি। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা এটুকু অধিকার অর্জন করেছি, সে অধিকার কাউকে আমরা হরণ করতে দেব না। কাউকে পুরনো রাজনীতি আর জঙ্গলের নিয়ম চালু করতে দেব না। এটা আমাদের অঙ্গীকার!
– ছাত্র গণমঞ্চ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

