এই জমিদারি তৈরী করা হয়েছে রাষ্ট্রের অপরাধ দমন সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে থেকে বিরাট অপরাধযজ্ঞের মাধ্যমে। কোন রাষ্ট্রের অপরাধ দমনে যুক্ত শীর্ষ ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে যুক্ত-এই হল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বা সরকার এতবড় অপরাধযজ্ঞ সম্পর্কে জানতো না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ বেনজির প্রধানমন্ত্রীর আশির্বাদে দীর্ঘসময় পুলিশ ও র্যাবের শীর্ষপর্যায়ে নিয়োগ পেয়েছেন। এই অপরাধ কি তবে অনুমোদিত ছিল? গুম, খুনের মত অপরাধ থেকে শুরু করে চরম দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকারকে ক্ষমতায় রাখার পুরষ্কার হিসাবেই কি এই অনুমোদন পায়নি বেনজিররা? তাহলে কেবল অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রশ্ন আসছে কেন, একটা অপরাধ দমনকারী বাহিনীকে উল্টো চরমতম অপরাধের অপরাধীচক্রে পরিণত করাটা চূড়ান্তরকম অপরাধ নয় কি? এসবের দায় কি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারেন?
এই অপরাধগুলোরও তদন্ত ও বিচার করা চাই। একই সাথে ক্ষমতায় থেকে লুণ্ঠনের জন্য বাংলাদেশকে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার অপরাধে এই সরকার ও তার শীর্ষ-কর্তাদেরও বিচারের দাবি আজ তুলতে হবে।
প্রশ্ন আসতে সরকারতো অপরাধের তদন্ত ও বিচার করছে, তাহলে সরকারকে দায়ি করা কেন? তাহলে পাল্টা প্রশ্ন আসে, জমি বেচে, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বেনজিরের স্বপরিবার বিদেশ গমনের নিরাপদ ব্যবস্থা করল কে? সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কি এর কিছুই জানতেন না? যদি না জানে, তার দায় কার? রাজনৈতিক জায়গা থেকে আমরা বুঝি, ভারতের কারণে সুবিধা করতে না পারলেও মার্কিনীরা সরকারের হাত মোচড়ানোর জন্য মার্কিন স্যাংশনপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে রেখেছিল। এখন নির্বাচনের পর সরকার বাধ্য হয়ে সে দাবিপূরণের নাটক সাজিয়েছে। চোরকে পালাবার ব্যবস্থা গেরস্তকে ধরার নির্দেশ দিয়েছে। এই হলো সরকারের তদন্ত ও বিচারের সারবস্তু।
এই ক্রিমিনালদের বিচার না করে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সেটা করতে হলে এই দস্যুদের হাতে বাংলাদেশকে সঁপে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। তত্ত্ববধায়ক বা তদারকি সরকারের নামে এই ফ্যাসিস্টদের নিরাপদ প্রস্থান ও পুনর্বাসনের কর্মসূচি দিয়ে এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। প্রয়োজন এই দস্যুদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে ফ্যাসিবাদ নির্মূল করার কর্মসূচি। আমরা জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ, সেই কর্মসূচির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক ব্যক্তি ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। মনে রাখা দরকার, আন্দোলনের লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে, কি প্রতিষ্ঠা হবে অথবা হবে না। অতীতে বারবার এই ভুল করা হয়েছে বলেই আজ আমরা সর্বনাশের চূড়ায় পৌঁছেছি। আর ভুল করার সুযোগ নেই।

