কোন শূন্যস্থান বেশি দিন ফাঁকা থাকে না। ক্ষমতার শূন্যস্থানও ফাঁকা থাকবে না। বোকার স্বর্গে বসবাস না করলে যে কারোরই এটা বুঝবার কথা।

আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতা সরকার থেকে শুরু করে গলি-তস্যগলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বস্তুত মাঠ পর্যায়ের ঐ বিস্তৃত শেকড়ের ওপর দাঁড়িয়েই সরকার টিকে ছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেকড়ে টান লাগায় সরকার উৎখাত হয়ে গেছে। সাময়িক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠের দখল নিয়েছিল ছাত্র-জনতা। মাঠের দখল আর দেশি-বিদেশি শক্তি সহায়তার বলেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু নিতান্ত স্বপ্নচারি না হলে আমাদের এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, অভ্যুত্থানের চূড়ান্তে অসংগঠিত স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র-জনতা যেভাবে মাঠ দখলে নিয়েছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের সংহতি ও মাঠের দখল ক্রমশ কমে যাবে।

আমাদের বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের স্থান দখলের ছাত্র-জনতার বাইরে আরেকটি স্বৈরাচারী শক্তি উন্মুখ হয়েছিল। অভ্যুত্থানের কারণে মাঠ ছাত্র-জনতার দখলে চলে যাওয়ায় তাদের অপেক্ষার পালা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বটে, কিন্তু ছাত্র-জনতার সংহতি ও মাঠ দখলে রাখার ক্ষমতা যে হারে কমবে, তারা ঠিক সে হারে ক্ষমতার শুন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে যাবে। আর মাঠ দখল হয়ে গেলে সরকার দখল করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সুতরাং এই বিপদ সম্পর্কে আমাদের সজাগ হওয়া সবচেয়ে জরুরী প্রশ্ন।

কেউ যুক্তি দেখাতে পারেন, আমরা স্বতঃস্ফূর্ত জনতা আবারো নব্য স্বৈরাচারকেও উৎখাত করব। হ্যাঁ তা হয়ত করব, কিন্তু তার মাঝে আরো ১৫ বছর চলে যেতে পারে। সুতরাং ছাত্র-জনতার হাতে মাঠ দখলে রাখাটা জরুরী। এ জন্য সারাদেশে গলি থেকে তস্যগলি পর্যন্ত ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধের দূর্গ এখনই গড়ে তুলতে হবে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন