পূর্ববাংলার বীর জনগণ, আমাদের লড়াই শেষ হয়নি, অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করুন!

★ আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী সংস্থা আইএফসি-র পরামর্শই হাসিনা সরকারের নিয়োগকৃত বিদেশী কনসালটেন্ট ফার্ম সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ অনুসারেই সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির উচ্চ মুনাফার স্বার্থে বন্দরের ট্যারিফ ৪০% বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিদেশিদের হাতে বন্দর হস্তান্তর করা হচ্ছে। এতে দেশের আমাদানি-রফতানি বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। রফতানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে আর আমাদনিসংশ্লিষ্ট জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। এই ক্ষতি স্বীকার করে যে ট্যারিফ আয় বাড়বে, তা মুনাফা আকারে চলে যাবে বিদেশে।
★ কিন্তু বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আজকে ভূ-বাণিজ্যিক, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে স্রেফ আর্থিক লাভ-ক্ষতির বিষয়ে সীমিত রাখার সুযোগ নেই। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী সমুদ্রপথ দখলের লড়াই কেবল বাণিজ্য পথ দখলেরই লড়াই নয়, তা একাধারে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক-সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের অংশ। মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের সাথে চীন-রুশ সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্বে চীনের বিআরআই, স্ট্রিং অব পার্লস, দক্ষিণ চীন সাগরে উপস্থিতির বিপরীতে মার্কিনীদের ট্যারিফ যুদ্ধ, বার্মা এক্ট, কোয়াড জোট, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ইত্যাদি পদক্ষেপ এই অঞ্চল জুড়েই চলছে। এখানে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বন্দরগুলো রণকৌশলগত গুরুত্ব ধারণ করে। আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি মার্কিনীরা দখলে নিতে চায়। মাইয়ানমার ও পাক-আফগান সীমান্তে যুদ্ধ চলছে।  সুতরাং এমন এক প্রেক্ষাপটে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অনুগত দেশ, বিশেষত তাদের সামরিক তৎপরতার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর তুলে দেয়ার প্রচেষ্টাকে কেবল দেশের “বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের” ব্যাপার মনে করার কোন সুযোগ নেই। বর্তমান যুদ্ধাংদেহী আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে জড়ানো হবে জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য গুরুতর হুমকি।
★ কেবল তাই নয়, যে কোন দেশের জন্যই প্রধান বন্দরগুলোকে জাতীয় অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রণকৌশলগত স্থাপনা বিবেচনা করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের জন্য এই রণকৌশলগত গুরুত্ব ধারণ করে। এদিক থেকেও বিদেশিদের হাতে বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়া চলে না।
★ অনেক লেখক দেখিয়েছেন, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা যে দক্ষতার বাড়াবার অজুহাতে বন্দর তুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে তার তাৎপর্য সামান্যই। উদ্যোগ নিলে এসব সমস্যা আমরা নিজেরাই সমাধান করতে পারি।
★ কিন্তু এতসব বিবেচনা করার প্রয়োজন এই ইন্টারিম সরকারের নেই। কারণ আমরা প্রথম থেকেই জানিয়ে এসেছি, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায্য ক্ষোভের ভিত্তিতে সংঘটিত হলেও, এর ফসল মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের দালারা আত্মসাৎ করেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল সেনাসমর্থিত এনজিও-সিভিল সোসাইটি ও ধর্মবাদী রাজনৈতিক শক্তি ইন্টারিম সরকার গঠন করেছে। তাই এই সরকার এমনকি হাসিনা ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা হলেও মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষায় বাধ্য।
★ কোন দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও রাষ্ট্রে এ ধরনের সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যকে নয়া উপরিবেশিক পরাধীনতা হিসাবেই গণ্য করা হয়। স্বাধীনতা ২ বলে আসলে এই পরাধীনতাকেই আড়াল করা হচ্ছে। তথাকথিত চব্বিশের চেতনাবাজ দেশবিক্রয়কারী সমস্ত দলই সরকারের এই জাতীয়স্বার্থবিরোধী তৎপরতার বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে।
★ সকল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তি ও জনগণের প্রতি আমাদের আহ্বান সাম্রাজ্যবাদের হাতে বন্দরসহ দেশ তুলে দেয়ার চক্রান্ত প্রতিহত করুন।
★ কমরেড সিরাজ সিকদারের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমাদের পুনরায় আওযাজ তুলতে হচ্ছে, “পূর্ববাংলার বীর জনগণ, আমাদের লড়াই শেষ হয়নি, অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করুন!”

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন