সভা-সমাবেশের ওপর এই ফ্যাসিবাদী হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সেইসাথে সহিংসতা মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও জীবনহানির ঘটনা অমরা মেনে নিতে পারিনা। এই পরিস্থিতির জন্য ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দায়ি করা যথেষ্ট নয়, এর দায় এই সরকার ও অঘোষিত সরকারি দলগুলোকেও নিতে হবে।
গোপালগঞ্জে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রেজিমের সুবিধাভোগ করা লোকের সংখ্যা বিপুল। ৫ আগস্টের পর আওয়াীলীগের নেতা-কর্মীদের অনেকের জন্য অভ্যয়ারণ্য হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জ। তাই গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের অর্থ ও অস্ত্রের ভান্ডারে পরিণত হওয়া স্বাভাবিক। এটাও অজানা নয় যে, সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে নানাভাবে রক্ষা করছে শুরু থেকেই।
সরকার ও এনসিপি এন্ড কোম্পানির এসব অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু সরকার ও অঘোষিত সরকারি দলগুলি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নির্মূলের জন্য দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা, এদের নেতৃত্ব, সংগঠন, অর্থ ও অস্ত্রবল ধ্বংস করা, আদর্শগত প্রচারের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের সাধারণ জনগণকে জয় করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তারা আমাদের কথা শোনেনি, তারা শুনেছে মার্কিন-ভারতের কথা। ফলে আওয়ামী গণহত্যার বছর না ঘুরতেই তারা চোখ রাঙাবার সাহস দেখাতে পেরেছে। তাই এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদেরও নিতে হবে।
এর সাথে যুক্ত করা আবশ্যক যে, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির নাম পাল্টে “রোড মার্চ টু গোপালগঞ্জ”, শেখ মুজিবের কবর ভাঙ্গার গুজব নিয়ে রসিকতা সহিংসতাকে উসকে দেয়ায় ভূমিকা রেখেছে।
আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নিষিদ্ধকরণ, তাদের নেতা ও অপরাধে যুক্তদের বিচার, তাদের সংগঠন, অর্থ ও অস্ত্র বল ধ্বংস করার পদক্ষেপ নেযার দাবি জানাই। কিন্তু এ অজুহাতে রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করার আমরা ঘোর বিরোধী। কারণ এভাবে এই হাতিয়ার মুক্তিকামী জনগণের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করার সমূহসম্ভাবনা আছে।

