- ছাত্র গণমঞ্চ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের দেয়ালে আমরা ছাত্র গণমঞ্চ যে দেওয়াল লিখন করেছিলাম—
“আওয়ামী বিশ্বাসঘাতকদের উৎখাত কর, তাদের কালো টাকা ও সম্পত্তি জাতীয়করণ কর, তাদের রাজনৈতিক অধিকার হরণ কর, তাদের মধ্যকার ঘৃণ্য খুনীদের চরম শাস্তি প্রদান কর”
—তা ছাত্র শিবির কর্তৃক মুছে ফেলা হয়েছে। আমরা এই ফ্যাসিবাদী ও গণতন্ত্রবিরোধী আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের দূর্গ হিসেবে পরিচিত। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দেয়াল লিখন ছিল এক শক্তিশালী হাতিয়ার, যেখানে জনগণের কণ্ঠস্বর ফুটে উঠত রঙ ও শব্দে। নব্বইয়ের পর যখন নতুন মোড়কে ফিরে আসে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র, তখন থেকেই ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য রক্ষার’ অজুহাতে দেয়াল লিখন ও পোস্টারিং নিষিদ্ধের চেষ্টা চলতে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দমননীতি আরও কৌশলী হলেও, জুলাই আন্দোলন আবার প্রমাণ করেছে—দেয়াল লিখন নিছক রঙ-তুলি নয়, এটি হচ্ছে জনগণের ভাষা, বিক্ষোভের শিল্প, গণতন্ত্রের চিত্রকাব্য।
ছাত্র শিবিরের মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠন—যারা বারবার ইতিহাসে প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা রেখেছে—আজকে জনগণ কর্তৃক আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলো যে লেখনিটি তা মুছে ফেলা আরেকটা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড। তাদের এই কর্মকাণ্ড কেবল ছাত্র গণমঞ্চ নয়, গোটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত।
আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী সকল ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাই—
এই দেয়াল লিখন মুছে ফেলার ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
এই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিবাদে সক্রিয় হোন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার হোন।
নাসিম সরকার,
আহবায়ক , ছাত্র গণমঞ্চ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৩০ জুলাই ২০২৫

