হাসিনা-খালেদাকে মাইনাস করে ড. ইউনুসের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার গঠন। এ জন্য ডিজিএফআই-কে দিয়ে জবরদস্তি “সংস্কারপন্থী” নেতাদের দিয়ে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা করা হয়। ড. ইউনুসও নাগরিক শক্তি নামে কিংস পার্টি গঠনের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল এই সরকারের ক্ষমতা কেন্দ্রগুলোর (সেনাবাহিনী, এনজিও, সিভিল সোসাইটি, ড. কামাল, মান্নার মত বিচ্ছিন্ন কিছু সংস্কারপন্থী রাজনীতিবিদ, প্রথম আলো, স্টার এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিনপন্থী বিজনেস গ্রুপ) তৃণমূলে কোন ভিত্তি ছিল না। ফলে জনপ্রিয়তা হারাবার পর ছোট এক ধাক্কাতেই তাদের পতন তরান্বিত করতে সক্ষম হয় ভারতের দালাল আওয়ামী লীগ।
কথাগুলো স্মরণ করার দরকার হচ্ছে, এবি পার্টির এই কর্মকর্তার বক্তব্যকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করবার জন্য।
হাসিনা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এক মহান অভ্যুত্থান পরিচালিত হলেও, এটা পরিষ্কারভাবে বুঝে নেয়া দরকার যে, মার্কিনের দালাল সেনা সমর্থিত তৃতীয় শক্তিই ক্ষমতা দখলে নিয়েছে। (এটা নতুন ঘটনা নয়, জনগণের মহান সংগ্রাম সত্ত্বেও একাত্তরেও ভারতের দালাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়েছিল, ৯০ এ তার পুনরাবৃত্তি হয়েছে) অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা জামাত, লিবারেল এবি পার্টি, গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি ও সংস্কারবাদী দলগুলো ওপর ভর করেছে। এনসিপি গঠন করে আন্দোলনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাচ্ছে। এই পার্টিগুলোই এখন কিংস পার্টির ভূমিকায়। এরা সকলেই অর্থনীতির ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী উদারতাবাদী নীতির সমর্থক। বিএনপি সাম্রাজ্যবাদী উদারতাবাদের সমর্থক হলেও কাঠামোগতভাবে ক্ষমতার একচেটিয়াকরণের ওপর দাঁড়ানো যা ক্ষমতার নয়া ভাগ-বাঁটোয়ারার মার্কিন এজেন্ডার সাথে যায় না এবং এক এগারোর হিংসার শিকার। ফলে বিএনপিকে তারা বিশ্বাস করে না। মার্কিনীরা জানে নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তখন তাদের এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই এই পুতুল সরকারকে দিয়ে অন্তত জরুরী এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে তারা উঠে পড়ে লেগেছে।
সরকারপন্থীদেরই বক্তবঢ অনুযায়ী ‘ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে”, সে জন্য জরুরী সংস্কার করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর তাদের মূল কর্তব্য। তাহলে সেখানেই তাদের মনোযোগ দেয়ার কথা। কিন্তু তারা তাদের ঘোষিত এজেন্ডায় সীমিত থাকছেনা। জনগণের কোন স্তরেই আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ছাড়াই রাখাইন করিডর, বিদেশিদের হাতে বন্দর ও অস্ত্র কারখানা তৈরীর মত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়া করছে। তখন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক তারা মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই ক্ষমতায় বসেছে কিনা। কারণ মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক রণকৌশলের আওতায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ৬০ ভাগ এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে যার লক্ষ্যবস্তু চীন। চীনকে ঘেরাও করবার জন্য বার্মার যুদ্ধে অনুপ্রবেশ এবং বার্মায় নিজের অবস্থান তৈরী করা মার্কিনের অন্যতম এজেন্ডা। এ লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেস “বার্মা এক্ট” প্রণয়ন করেছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেস্টকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিপুল ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, যা কেবল যুদ্ধের পরিস্থিতিতে দেয়া হয়। সুতরাং আমরা যখন বন্দর, করিডর, অস্ত্র কারখানা নিয়ে সরকারের তাড়াহুড়োকে চ্যালেঞ্জ করছি, তার একটা বাস্তব প্রেক্ষিত আছে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষিত ছাড়া খন্ডিত ও আপাত প্রেক্ষিত থেকে এই সব প্রকল্পের মর্ম বিচার করা যাবে না।
এই এবি পার্টি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ইন্দো-প্যাসিফিক রণকৌশলের সমর্থক। তারা আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী বিরোধ ও যুদ্ধের মধ্যে নিক্ষেপ করে হলেও টাকার থলি ভারি করতে চায়। এরা ইসলামের ধুয়া তুলে তুরস্কের এরদোগানের মত ফ্যাসিবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখে। যে এরদোগান সিরিয়ায় মার্কিন ইজরায়েলের বশ্য “জিহাদি”দের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবি পার্টি ভারতের চেয়ে বড় শক্তির দালালি করতে চায়। মার্কিনের নয়া উপনিবেশ হওয়াকে তারা উন্নয়ন হিসাবে হাজির করছে। এই নীতির আবার নাম রেখেছে “বাংলাদেশ পন্থা”!
২৪- এর মহান অভ্যুত্থান দিল্লীর বদলে ওয়াশিংটনের গোলামী করার জন্য হয় নাই।
করিডর, বন্দর, অস্ত্র কারখানা বিদেশিদের দেব না!
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা ধ্বংস হোক!

