নাহিদরা শাসন কাঠামো বদল বলতে পুরোনো রাষ্ট্রের সংস্কার বুঝিয়ে থাকে, নয়া উপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক পুরোনো রাষ্ট্রের উচ্ছেদ নয়।
ওয়ান ইলেভেনের সরকারও এইরকম সংস্কার চেয়েছিল। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য দেশের শাসক শ্রেণীর দ্বিদলীয় রক্তক্ষয়ী একচেটিয়া রাজনীতির বিপরীতে শাসক শ্রেণীর অপরাপর উপদলগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক দখল ও রাজনৈতিক ক্ষমতার একটা ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বন্দোবস্ত সৃষ্টি করা, যাতে “উইনার টেকস অল” অবস্থা সৃষ্টি না হয়।
তাদের সংবিধান পরিষদ ও সংবিধান তৈরীর কর্মসূচির মূলে রয়েছে সংবিধান ও আইনি কাঠামো দিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেভাবে ঢেলে সাজিয়ে- ঐ বন্দোবস্তকে সুরক্ষিত করা।
আওয়ামী লীগ বিএনপির মত শাসক শ্রেণীর বড় স্টেক হোল্ডাররা বিদ্যমান শাসন কাঠামোর পক্ষে, কারণ এই শাসন কাঠামোর তারা একচেটিয়া বেনিফিশিয়ারি। মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদ, সংস্কারবাদী তৃতীয় শক্তি এবং শাসক শ্রেণীর সুবিধাবঞ্চিত উপদলগুলো সংস্কারের পক্ষে। তারাই এখন সরকারে। তারা শঙ্কিত যে নির্বাচনে বিএনপি চলে এলে তারা নিজের পায়ে কুড়াল চালাতে আগ্রহী হবে না, অতীতের মত সংস্কারকে মাটি চাপা দিয়ে বহাল অবস্থাকেই টিকিয়ে রাখবে। সুতরাং জাতীয় নাগরিক পার্টির মূল এজেন্ডা হবে এই সংস্কার কর্মসূচি।
ওয়ান ইলেভেনে মাইনাস টু এবং সংস্কার, জাতীয় সনদ ইত্যাদির মাধ্যমে শাসক শ্রেণীর তৃতীয় শক্তি নতুন যে রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি তুলেছিল; জুলাই অভ্যুত্থানকে কাজে লাগিয়ে; সে বন্দোবস্তই পুরণের পথে অনেকখানি এগিয়ে চলছে তারা। মিলিটারি ব্যাক্ড ইউনুস তখন সামাজিক – রাজনৈতিক ভিত্তির অভাবে বেশি দুর এগুতে পারে নি। পরে তারা থেমে থাকেনি। তারপরে নানা সংস্কারবাদী দল জন্ম হয়েছে, বঞ্চিত ছোট দলগুলোও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। জানাপা তৈরীর প্রক্রিয়ায় এই শক্তির রাজনৈতিক বিকাশ তরান্বিত হলো।
এই রাজনীতি শাসক শ্রেণীর উপদলগুলোর মধ্যে “ন্যায্য” হিস্যা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের কর্মসূচি হাজির করলেও, জনগণকে নিজের পতাকা তলে সমবেত করতে কিছু জনতুষ্টিবাদী স্লোগান ও কর্মক্ণ্ড করলেও, সারগতভাবে শ্রমিক, কৃষক, জনগণের শোষণ-নিপীড়নের নয়া উপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে টিকিয়ে রাখবে।

