দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর আরবের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও তেল নতুন সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা ও তার আধিপত্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসাবে দেখা দেয়। সেই ঐতিহাসিক শর্তের গর্ভেই পরমানু অস্ত্রসহ চূড়ান্ত এক সামরিকীকৃত জায়নবাদী কৃত্রিম রাষ্ট্র ইজরায়েলের জন্ম। পুঁজিবাদের অসম বিকাশের নিয়মে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকেন্দ্রিক একমেরু বিশ্ব ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার প্রক্রিয়ায় রুশ-চীন পরাশক্তির উত্থানে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তনের ফলেই আরবে আধিপত্যের লড়াই তীব্র রূপ নিচ্ছে। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া হয়ে ইরানের দিকে তা অগ্রসর হচ্ছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য রুশ-চীন সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি।
এসব যুদ্ধে ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ জনসাধারণ হতাহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, সহায়-সম্পদ-জীবিকা ধ্বংস হয়ে গেছে, অনাহার ও দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছেন। জীবনের জন্য সম্পদের ব্যবহার কমেছে, মারনাস্ত্রের পেছনে ব্যয় বেড়েছে। আমরা এমন এক শঙ্কার মধ্যে আছি, যখন ছায়া যুদ্ধের রূপ ছাড়িয়ে গেলে পরের সোপানটি হলো প্রত্যক্ষ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ।
সামাজিকীকৃত উৎপাদন বনাম পুঁজিবাদী ভোগ-বণ্টনের দ্বন্দ্বের ফলে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায়ে উচ্চতর সংগঠন বনাম সামাজিকভাবে নৈরাজ্যের দ্বন্দ্বই পুঁজিবাদী সংকট ও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের দিকে চালিত করে। সাম্রাজ্যবাদ মানেই যুদ্ধ। এটা পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত নিয়ম যা এই ব্যবস্থা নিজে থেকে মুক্ত হতে পারেনা। আবার এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই দ্বন্দ্বের সমাধান ও মুক্তির শর্ত বিদ্যমান। উপরোক্ত দ্বন্দ্বের কারণেই বুর্জোয়া ও সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং সাম্রাজ্যবাদের সাথে নিপীড়িত জাতি ও জনগণের দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটে। তাই সর্বহারা নয়াগণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মধ্যেই আছে এর সমাধানের চাবিকাঠি।
সুতরাং, বিশ্বব্যাপী গণহত্যা, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, অনাহার, ধ্বংস, দারিদ্রের অবসানের জন্য আমাদের কর্তব্য হলো স্বদেশে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-পুঁজিবাদ ও সামন্ত অবশেষবিরোধী সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করা।

