ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন নিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এ আশঙ্কা থেকেই আমরা “ঘোলা পানিতে শিকার হয়ে যাওয়ার” বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। ছাত্র ইউনিয়ন নেতার কথায় আজ তারই সমর্থন মিলেছে। অপরদিকে উগ্রডানপন্থীরা এই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েই তাকে কাজে লাগাতে নেমে পড়েছে।
বস্তুত এই দুই ফ্যাসিস্ট শক্তি হলো একই মুদ্রার দুই পিঠ। এদের একের অস্তিত্ব অপরের ওপর নির্ভরশীল। এরা একের ফ্যাসিবাদী অপকর্মের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে অপরে রাজনৈতিক পুঁজিতে পরিণত করে। জনগণকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করে, ফ্যাসিবাদী উন্মাদনা তৈরী করে স্বার্থ হাসিল করে। ফলে এদের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াই তাদের বিকাশ ও বৃদ্ধির সঞ্জীবণী।
যে ইতিহাস- উপমহাদেশের রাজনীতি, বিশেষত ১৯৭১- এই ফ্যাসিবাদী শক্তিদ্বয়কে জন্ম দিয়েছে, শাপলা-শাহবাগ আকারে যা ফিরে ফিরে এসেছে- তার গণমুখী বিচার-পুনর্বিচার ছাড়া এইসব ফ্যাসিবাদী আদর্শের মোহাচ্ছন্নতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার জো নেই। আর এখানে আমাদের সঠিক দিশা দিতে পারেন কমরেড সিরাজ সিকদার।
যারা এখনো ভাবেন, আওয়ামী উগ্রবাঙালী জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদের সহায়তায় উগ্রধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা করবেন, অথবা উগ্রধর্মবাদী ফ্যাসিবাদ দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা করবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। তাই ধর্ষণবিরোধী ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে আমাদের যেমন সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তেমনি সিপিবি অফিস দখলের উসকানি দিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়েও আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।
তাহলে এদের মোকাবেলা করার সঠিক পথ কোনটি?
সাম্রাজ্যবাদী সংস্কারবাদী পথটি হলো এই ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারী শক্তিগুলোক তওবা পড়িয়ে শাসক শ্রেণীর মধ্যে একটা অন্তর্ভূক্তিমূলক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। এই দুই ফ্যাসিস্ট শক্তির ওপর বিক্ষুব্ধ জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সংস্কারবাদীরা এভাবে শাসক শ্রেণীর শাসন সংস্কার করে টিকিয়ে রাখতে চায়।
সুতরাং, সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ এবং তাদের দালাল প্রতিক্রিয়াশীল ফ্যাসিস্ট শাসক শ্রেণীর দুঃশাসন থেকে মুক্তির সংগ্রামকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে, সংস্কারবাদী পথের উন্মোচনসহ
এই উভয় প্রকার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ বিপ্লবী সংগ্রামের নীতিতে অটল থাকতে হবে।

