তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আহুত
হরতাল সফল করুন
বঙ্গোপসাগরের ৩টি গ্যাস ব্লক দেশবিরোধী চুক্তির আওতায় সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীর কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবীতে এবং তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় কমিটি আহুত আধাবেলা হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ।
সাগরের গ্যাস ব্লকসহ দেশের কয়লা খনি সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বহুদিনের। বিভিন্ন সময় প্রতিটি সরকারই দেশের জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন খনি সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীর কাছে দেশবিরোধী চুক্তির আওতায় ইজারা দিয়ে আসছে। জাতীয় সম্পদ লুটের এই আয়োজন সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী নীলনকশার অংশ; যার ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বর্তমান মহাজোট সরকার।
এটা এখন অত্যন্ত পরিষ্কার যে, সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী নীলনকশা বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যারাই প্রতিবাদ করবে সরকার তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করবে। ইতিপূর্বেই টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় সরকার তা প্রমাণ করেছে এবং ২রা সেপ্টেম্বরের হামলার মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট করেছে। বর্তমান রাষ্ট্র পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি ফ্যাসিস্ট এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তেই থাকবে।
সহযোদ্ধা বন্ধুগণ, বিশ্বমন্দার অজুহাতে শিল্পপতিরা তাদের স্বার্থরক্ষক দালার সরকারের মাধ্যমে জনগণের সম্পদ নিজেদের পকেটে নেওয়ার ব্যবস্থা করার পরও শ্রমিকদের বেতন-বোনাস হতে বঞ্চিত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেতন-ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা সংকোচনের সাম্রাজ্যবাদী কর্মসূচী এগিয়ে নিচ্ছে; দমনমূলক প্রক্টোরিয়াল ল প্রণয়ন করছে। কৃষকরা নিঃস্ব হচ্ছে; ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অবশিষ্ট কিছু সংখ্যক রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানা বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। ভারত টিপাইমুখ বাঁধের কাজ বিনা বাধায় এগিয়ে নিচ্ছে। আর এসবের সাথে রয়েছে জাতীয় সম্পদ পাচারের আয়োজন। এমতাবস্থায়, জনগণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিবাদ-প্রতিরোধ অনিবার্য। এই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ সুচারুরূপে দমনের জন্য সরকার শিল্প পুলিশ, ক্যাম্পাস পুলিশ, প্রভৃতি গঠন করছে এবং বিভিন্ন দমনমূলক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে আরও ফ্যাসিস্ট করে গড়ে তুলছে। এসবই হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের পরামর্শ ও নির্দেশনায়। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে জ্বালানীসহ সকল ধরনের সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী রাজনৈতিক-সামরিক-অর্থনৈতিক নীলনকশা প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তির অধীনে ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ জাতীয় কমিটির কর্মসূচী সফলভাবে পালনের জন্য সকল দেশপ্রেমিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
০ অবিলম্বে সাগরের ৩টি গ্যাস ব্লক ইজারা বাতিল কর!
০ মডেল পিএসসি ২০০৮ বাতিল কর!
০ জনগণের আন্দোলনের ওপর ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়ন বন্ধ কর!
০ সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী রাজনৈতিক-সামরিক-অর্থনৈতিক নীলনকশা প্রতিহত করুন!
আহ্বায়ক
জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ।

