ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রীদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি হলেও ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৪টি হলের বিপরীতে ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫টি হল। এর মধ্যে ৩টিই ক্যাম্পাসের বাইরে। সেখান থেকে যাতায়াতের নিয়মিত নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাও অপ্রতুল। ফলে প্রতিদিনই এই ছাত্রীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা সংকটে পড়তে হচ্ছে।
একসময় ছাত্রীসংখ্যা কম ছিল বলে তাদের হলও কম ছিল। কিন্তু আজকের বাস্তবতা ভিন্ন। ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাসন সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছাত্রীদেরই এ সংকট এখন বেশী ও ব্যাপক। অথচ, সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। ফলে, ছাত্রীরা আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রশাসন সম্প্রতি যে ৯টি নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্রদের আবাসন সংকট নিরসনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদের জন্যে ৫টি হল রাখা হলেও ছাত্রীদের জন্যে রাখা হয়েছে ৪টি হল। যেহেতু এখন, ছাত্রীদের আবাসন সমস্যাই বেশি তীব্র ও সংকটপূর্ণ তাই, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল ছাত্রীদের সংকটকে প্রাধান্য দিয়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে- প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৫,১০০ জন ছাত্রের বিপরীতে মাত্র ২,৬০০ ছাত্রীর আবাসন সুবিধা তৈরি হবে, যা প্রয়োজনের বিপরীত অনুপাতকেই নির্দেশ করছে। এতে, ছাত্র-ছাত্রী সবার আবাসন সমস্যা যথাযথ অনুপাতে কিছুটা হলেও নিরসনের যে সুযোগ ছিলো তা নিশ্চিত হবেনা। বরং, যারা বেশি সংকটে তাদের কম মনোযোগ দিয়ে সকল শিক্ষার্থীর আবাসন সমস্যাকে নতুনভাবে সাজিয়ে বাড়িয়ে তোলাই হবে।
সুতরাং, আমরা দাবি জানাচ্ছি—
১. ছাত্রীদেরকে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর আবাসন সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
২. নতুন প্রকল্পে ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ছাত্রীদের জন্যে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন হল নির্মাণ সহ অধিক সংখ্যক ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রীদেরসহ সকল শিক্ষার্থীর নিয়মিত-নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা-সংকট নিরসনে যথাযথ মনোযোগসহ সমতা নিশ্চিত করতে হবে। সকল ছাত্র-ছাত্রীর নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যাবস্থা করতে হবে।
(স্বাক্ষরিত)
নিঘাত রৌদ্র
সদস্য
কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি কমিটি
ছাত্র গণমঞ্চ

