২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কোন প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রজ্ঞাপন জারি করে কোটা বাতিল করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছে তার জেদের কারণে এভাবে কোটা বাতিল করা হয়েছিল। যদিও রাগ-ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া প্রধানমন্ত্রী শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। যাই হোক, যার প্রধানমন্ত্রীত্বই অবৈধ তার শপথের বৈধতা লঙ্ঘনে কিবা আসে যায়! ২০১৮ সালেও শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল ”কোটার যৌক্তিক সংস্কার”। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর জেদ করে তিনি যে, সমস্ত কোটা অবৈধ প্রক্রিয়ায় বাতিল করলেন, তখন তিনিতো আইন-আদালতের তোয়াক্কা করেননি। কিছু কোটাপ্রত্যাসীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই প্রজ্ঞাপন হাইকোর্ট যখন বাতিল করল, সেই ভুলের উৎস কোথায়, তার জন্য আসলে দায়ি কে? উত্তর সোজা: একমাত্র শেখ হাসিনা এবং তার জেদ। বলা হচ্ছে, আন্দোলনকারীরা কেন তখন উকিল নিয়োগ করেনি, যেন দায়টা আন্দোলনকারীদের! যে প্রক্রিয়াটি অবৈধ তা উকিল দেয়া হোক আর আপিল করা হোক, তা অবৈধই প্রমাণিত হতে বাধ্য।
এই ভুল ক্ষমারযোগ্য হতো যদি আন্দোলনকারীদের দাবি অনযায়ী এবং হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নিত। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট প্রজ্ঞাপনটি অবৈধ ঘোসণা করলেও, কোটা সংস্কারের এখতিয়ার যে সরকারের আছে, তা রায়ে পরিস্কারভাবে ‍উল্লেখ করেছে। কিন্তু প্রতারক সরকার সোজা পথে না হেঁটে মুখে কোটা সংস্কারের পক্ষে বলে প্রজ্ঞাপন অবৈধতার রায় পুনর্বিবেচনার আপিল করে যা ছিল আন্দোলনকারীদের ধাপ্পা দেয়ার একটা চেষ্টা। এটাও হয়ত ক্ষমা করে দেয়া যেত, যদি না সরকার কুকুর হত্যা করার জন্য একটা খারাপ নাম দেয়ার কৌশল অবলম্বন করে এতগুলো তাজা তরুণ প্রাণ কেড়ে না নিত। এ জন্য কাউকে যদি ব্যক্তিগতভাবে দায়ি করার থাকে তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নন। এরপর তার ক্ষমতায় থাকা একমূহূর্তের জন্য সহ্য করা যায় না।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন