হাসিনাসহ গণহত্যা, দুঃশাসন লুণ্ঠন—পাচারে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ বন্ধ ও গ্রেফতার করতে হবে!

গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র—শ্রমিক—জনতার অস্থায়ী গণসরকারের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে!

বীর ছাত্র—জনতা,
শত শত শহীদ ও লাখো—কোটি জনতার বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ফলে আজ গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের পতন ঘটেছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা আবু সাইদ, মুগ্ধসহ সকল বীর শহীদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণ নেতৃবৃন্দ এবং সংগ্রামী ছাত্র—জনতাকে জানাই লাল সালাম।

সংগ্রামী সাথী, আমাদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। জুলাই গণহত্যাসহ গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে যে গুম, খুন, নির্যাতন হয়েছে, যে শোষণ—লুণ্ঠন—পাচার হয়েছে, সেই কৃতকর্মের বিচার করা এখনো বাকী। সুতরাং হাসিনাসহ এইসব অপকর্মের হোতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। এই দস্যুদের বিদেশে সম্পদপাচার করে পালিয়ে যাবার দায় রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানকে নিতে হবে।

ছাত্র—শ্রমিক—জনতার রক্তের ওপর দিয়ে অতীতের মত দেশি—বিদেশি শক্তির সমঝোতায় পতিত স্বৈরাচারের পুনর্বাসনকারী ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার রক্ষাকারী সামরিক বা বেসামরিক অন্তরবর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিক কিংবা ধর্মভিত্তিক অগণতান্ত্রিক রাজনীতি আধিপত্য বিস্তার করুক—ছাত্র-জনতা তা মেনে নেবে না । আমরা মনে করি, দেশের শান্তি—শৃঙ্খলা রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ ফ্যাসিবাদ—স্বৈরতন্ত্রের বিলোপ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র গ্যারান্টি ও বৈধ অধিকারী হলো অভ্যুত্থানকারী ছাত্র—শ্রমিক জনতার অস্থায়ী গণ সরকার।
নানামহল থেকে ছাত্রদের মাথায় হাত বুলিয়ে “সুশীল সমাজের অন্তরবর্তী সরকার” গঠনের আওয়াজ তোলা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, লড়বে—মরবে ছাত্র—শ্রমিক—জনতা আর ক্ষমতা নেবে সেনাসমর্থিত সুশীল সমাজ—— তা হবে না। আন্দোলনকারী ছাত্র—শ্রমিক—জনতার প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণসরকার গঠন করতে হবে। তাই সেনা সরকারকে অবিলম্বে অস্থায়ী গণ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।
আন্দোলনকারী স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র—শ্রমিক—জনতাকে এখনই গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গণ অভ্যুত্থানের সংস্থা হিসাবে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র—শ্রমিক জনতার আন্দোলন”—এর সমন্বয় কমিটিগুলোতে সংঘবদ্ধ করতে হবে। উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র—শ্রমিক—জনতার প্রতিনিধিদের কাউন্সিল গঠন করতে হবে। আন্দোলনকারী বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও এই কাউন্সিলগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ রাখতে হবে। এই কাউন্সিল কর্তৃক প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত অস্থায়ী গণসরকারের হাতে ক্ষমতা নিতে হবে।
এই অস্থায়ী গণসরকারকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সন্ত্রাসী সাংগঠনিক, শিক্ষা—সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি বিলোপ করতে হবে। এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি আমরা পরে জানাবো।
অস্থায়ী গণসরকারকে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গণ, শ্রমিকের ২৫ হাজার টাকা মজুরি, খোদ কৃষকের হাতে জমি, ফসলে দাম, নিম্ন সুদে ঋণ, সিন্ডিকেট দমন ও দ্রব্যমূল্য হ্রাসসহ নারী, জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত সংখ্যালঘু, আলেম সমাজসহ জনগণের প্রতিটি অংশের জরুরী ও গণতান্ত্রিক দাবিসমূহ পূরণ করতে হবে।
এই গণসরকারকে অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রধান মদদদাতা ভারত রাষ্ট্র এবং অপরাপর বৃহৎশক্তির জাতীয়স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি, প্রকল্প, তৎপরতা বিলোপ করতে হবে।
অস্থায়ী গণসরকারকে জনগণের জন্য অবাধ গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদী নিপীড়নে দেশের ছাত্র—শ্রমিক—কৃষক— জনতা নিজেদের সংগঠন ও মতামত গঠন করতে পারেনি। জনগণকে গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দাবি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তার ভিত্তিতে সংগঠিত হওয়ার অবাধ সুযোগ দিতে হবে। সর্বস্তরের জনগণের কাউন্সিলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে প্রস্তাবগুলি আলোচনা ও সুপারিশ গৃহীত হবে। কেবল উপরোক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে; তার আগে নয়। এই সংবিধান সভা ছাত্র, শ্রমিক, সৈনিক, জনতার কাউন্সিলে গৃহীত সুপারিশের ভিত্তিতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন, সরকার ও রাষ্ট্র গঠন করবে।
সংগ্রামী বীর জনতা, আমাদের লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আন্দোলনের ফসল যেন অতীতের মত বেহাত না হয়। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম জারি রাখুন।
দাবি তুলুন:
১. হাসিনাসহ গণহত্যা, দুঃশাসন লুণ্ঠন—পাচারে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ বন্ধ, গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে!
২. আন্দোলনকারী ছাত্র—শ্রমিক—জনতার প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণসরকার গঠন করতে হবে।
৩. গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র—শ্রমিক—জনতার অস্থায়ী গণসরকারের হাতে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে!

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন