ঝরে যাওয়া রক্তে বিপ্লব তলিয়ে যায় না বরং ছড়িয়ে পড়ে
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) এর সাবেক সভাপতি বিপুল চাকমা, পিসিপির বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা লিটন চাকমা ও ইউপিডিএফ সংগঠক রুহিন বিকাশ ত্রিপুরাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও তিনজনকে।
খাগড়াছড়িতে চারজন তরুণ নেতৃত্বকে হত্যার জঘন্য ঘটনায় হতবাক হয়েছি। নিন্দা-প্রতিবাদ জানানোর ভাষা নেই। নিপীড়িত জাতিসমূহের মুক্তির মন্দিরে চার তরুণের রক্ত নিবেদিত হয়েছে। এই রক্ত বৃথা যাবে না, যেতে পারে না। রক্ত রঞ্জিত পাদদেশ অতিক্রম করেই মুক্তি অর্জিত হবে। রক্তের দামেই মুক্তি ক্রয় করতে হয়।
পাহাড়ের সকল সংগ্রামী বন্ধুদের প্রতি আবেদন জানায়, সহযোদ্ধাদের হারানোর শোকে ভেঙে পড়বেন না। নতুন করে শক্তি অর্জন করুন। প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্র, সরকার ও শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে। সমতলের শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের সাথে ঐক্য গড়ে তুলুন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী জনগণের উপর দমন-পীড়ন, খুন-গুম, ধর্ষণ-নির্যাতন, দখল-উচ্ছেদ চলছেই। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নানাভাবে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও শাসক শ্রেণি এসব ঘটনার সাথে যুক্ত।
আমরা মনে করি, জাতিসত্ত্বাসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণসহ অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
আমরা ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ’ বিশ্বাস করি, এই ধরনের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে জাতিসত্ত্বাসমূহের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম দমন করা যাবে না। আমরা অবশ্যই পাহাড় ও সমতলের সকল জনজাতির মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সমর্থন করি। আমরা মনে করি, কাউকে পরাধীন রেখে নিজের মুক্তি অর্জিত হতে পারে না। সকল জাতিসত্ত্বার মুক্তির মধ্যেই শ্রমিক কৃষক জনগণের মুক্তি নিহিত। পাহাড় ও সমতলের সকল মানুষের মুক্তি সংগ্রামে আমরা পাশে আছি, থাকবো।
১. অবিলম্বে বিপুল, লিটন, সুনীল, রুহিন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে
২. অপহৃতদের সুস্থ দেহে ফেরত দিতে হবে
৩. পাহাড়ে রাজনৈতিক হত্যা-গুম বন্ধ করতে হবে
৪. পাহাড় থেকে অঘোষিত সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে
নিপীড়িত জাতিসত্ত্বাসমূহের বন, ভূমি আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সংগ্রামকে সমর্থন ও বেগবান করুন !

