প্রসঙ্গ: শেখ হাসিনার ভারত সফর

২০০৪ সালে হাসিনা-মনমোহন চুক্তিতে কানেকটিভিটির দশক ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে অন্যতম প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য এই সড়ক, রেল, আকাশ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, বন্দর, টেলিকমিউনিকেশন, ডিজিটাল কানেকটিভিটি তৈরী করা ছিল এই স্ট্র্যাটেজির লক্ষ্য। তার আওতায় ট্রান্স এশীয় রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার অংশহিসাবে পদ্মাসেতু, রেলযোগাযোগসহ নতুন অবকাঠামো তৈরী করা হয়েছিল। বার্মা, চীন, মালয়েশিয়া পর্যন্ত পূর্বদিকে তার বিস্তার লাভের কথা। কিন্তু সেদিকে তা অগ্রসর হয় নি। পরিবর্তিত ভূ-রাজনেতিক বাস্তবতায় সমস্ত ”কানেকটিভিটি” প্রকল্প এখন ভারতের ১৯৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের ভিশন তথা বৃহৎ পুঁজির সম্প্রসারণবাদী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপায়ে পরিণত হয়েছে
এইসব কানেকটিভিটি প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ভারতের স্বাধীনতাকামী পূর্বাঞ্চলসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক, রাজনেতিক ও সামরিকভাবে কেন্দ্রিভূত ও সংহত করে তুলছে। ইতিমধ্যে নৌ ও সড়ক করিডোর নেয়ার পর এবার প্রায় ১০টি স্থানে সংযোগসহ দেশের মধ্যদিয়ে রেল ট্রান্সিট ও করিডোর হাসিল করেছে। এই কানেকটিভিটির অংশ হিসাবেই সিরাজগঞ্জে কনটেইনার ডিপো নির্মাণের প্রস্তাব করেছে। কিছুদিনের মধ্যে খাগড়াছড়ি সীমান্তের ভারতের সাথে সংযোগ সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সাধারণত কোন দেশের অভ্যন্তরে অপর রাষ্ট্রের এ ধরণের স্বার্থ থাকলে, তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করা হয়।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন