প্রসঙ্গ: শেখ হাসিনার ভারত সফর

ভারতের রণনীতির অন্যতম লক্ষ্য হলো এ অঞ্চলে এবং বিশেষত বাংলাদেশে উদীয়মান সাম্রাজ্যবাদী চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে রোধ ও খর্ব করা, যাতে বাংলাদেশকে একাধিপত্যমূলক পশ্চাদভূমিতে পরিণত করা যায়। ফলে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমুদ্র অর্থনীতি, মহাকাশের মত সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতেই নয়, ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেত্রে চীন প্রবেশ করেছে, সেখানে ভারত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভারত সীমান্তে চীনের উপস্থিতি চায় না বলেই তিস্তা প্রকল্পে চীনের ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবে হাসিনাকে সায় দিতে দেয় নি। এর আগে চীনে সফররত হাসিনাকে ভারত সোনাদিয়া সামুদ্রিক বন্দর করার বিষয়ে চুক্তি করা থেকে বিরত করে এবং ভারত নিজের সুবিধামত পায়রা সামুদ্রিক বন্দর প্রকল্প করতে বাধ্য করে। তিস্তার পানি বণ্টনের দীর্ঘদিনের দাবি সম্পর্কে কোন টু শব্দ না করলেও, এবার বাংলাদেশ অংশে তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ ও নদী ব্যবস্থাপনা চুক্তি করেছে।
বরাবরই চীন বাংলাদেশে অস্ত্রের প্রধান বিক্রেতা। ভৌগোলিকভাবে তিনদিক সীমান্তে ঘেরা ভারতই বাংলাদেশের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হওয়ায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্ট্র্যাটিজিকালি অস্ত্রের যোগানের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর নির্ভর করতে কখনো চায় নি। কিন্তু বর্তমান ও বিগত সফরকালে সামরিক ক্ষেত্রে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের মত বিষয়গুলোতে ভারতের কব্জা ক্রমশ দৃঢ়তর করা হচ্ছে। ফলে ভারতের প্রশ্নে সামরিক বাহিনী স্ট্র্যাটেজিকালি পঙ্গু হয়ে যাবে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন