গণহত্যার রক্তের দাগ শুকাবার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতিত গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট দলের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটা ছাত্র-জনতারর অভ্যত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী।

হিটলারের নাজি পার্টি, মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট পার্টি প্রথমদিকে বিপুল জনপ্রিয় ছিল। ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় গিয়েছিল। তারা তথাকথিত জঙ্গি দল ছিল না। কিন্তু তাদের সেই ফ্যাসিস্ট ভাবাদর্শ ও কর্মকাণ্ডের কারণে এসব দল আজো ইউরোপে নিষিদ্ধ। ছাত্র সমাজ আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট দল বলে আখ্যায়িত করেছে। অথচ এখন গণহত্যার রক্তের দাগ শুকাবার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতিত গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট দলের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটা ছাত্র-জনতারর অভ্যত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিরোধী।

এমন যে ঘটবে তা আন্দাজ করা কঠিন ছিল না। কারণ হাসিনা পালালেও আওয়ামীলীগের ১৫ বছরে দলীয়কৃত সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, শোষক-লুটেরা-পাচারকারী অতিধনী শ্রেণী, দল ও অঙ্গ সংগঠনের শক্তি এখনো অক্ষত আছে। ভারত তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছত্রছায়া দিয়ে যাচ্ছে। আর এটা এখন স্বীকার করা উচিত যে, সরকারে ছাত্র-জনতা কার্যত একটা গৌন ও বাহ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন ও ইউরোপীয় শক্তির মদদপ্রাপ্ত “তৃতীয় শক্তি”, এনজিও ও সিভিল সোসাইটি ও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কিছু সংস্কারবাদী রাজনৈতিক সংগঠন। ছাত্র-জনতার লীগ-দলবিরোধী স্বৈরতন্ত্র-ফ্যাসিবাদ বিরোধী মনোভাবকে মার্কিনপন্থী তৃতীয়শক্তি নিজেকে বলীয়ান করতে কাজে লাগাচ্ছে। বিএনপি, জামাত, জাপা, হেফাজতও তাদের সাথে যোগসাজোস রেখে চলছে। এই তিনপক্ষের দরকষাকষি ও সমঝোতার মধ্যদিয়েই সরকারে সমস্ত সিদ্ধান্ত আসছে।

আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখুন