ছাত্রদের মাথায় হাত বুলিয়ে “সুশীল সমাজের সরকার” গঠনের আওয়াজ তোলা হচ্ছে। সেটা হলে আন্দোলন ব্যর্থ হবে। লড়বে, মরবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আর ক্ষমতা নেবে সুশীল সমাজ– তা হবে না। আন্দোলনকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণসরকার গঠন করতে হবে। এ ছাড়া আন্দোলন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
আন্দোলনকারী স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে অবিলম্বে গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গণ অভ্যুত্থানের সংস্থা হিসাবে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক জনতার সংগ্রাম কমিটিতে” সংঘবদ্ধ করতে হবে। উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের কাউন্সিল গঠন করতে হবে। আন্দোলনকারী বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও এই কাউন্সিলগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ রাখতে হবে। এই কাউন্সিল কর্তৃক প্রত্যাহারযোগ্য প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত অস্থায়ী গণসরকারের হাতে ক্ষমতা নিতে হবে।
এই অস্থায়ী গণসরকারকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সন্ত্রাসী সাংগঠনিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তি বিলোপ করতে হবে। এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি আমরা পরে জানাবো।
অস্থায়ী গণসরকারকে ছাত্রদের গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন, শ্রমিকের ২৫ হাজার টাকা মজুরি, খোদ কৃষকের হাতে জমি, ফসলের দাম, নিম্ন সুদে ঋণ, সিন্ডিকেট দমন, দ্রব্যমূল্য হ্রাস, পাহাড়ে সেনা প্রত্যাহারসহ জনগণের প্রতিটি অংশের জরুরী ও গণতান্ত্রিক দাবিসমূহ পূরণ করতে হবে।
এই গণসরকারকে অর্থনীতি, রাজনীতি, সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের প্রধান মদদদাতা ভারত রাষ্ট্র এবং অপরাপর বৃহৎশক্তির জাতীয়স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি, প্রকল্প, তৎপরতা বিলোপ করতে হবে।
অস্থায়ী গণসরকারকে জনগণের জন্য অবাধ গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদী নিপীড়নে দেশের ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক জনতা নিজেদের সংগঠন ও মতামত গঠন করতে পারেনি। জনগণকে গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দাবি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও তার ভিত্তিতে সংগঠিত হওয়ার অবাধ সুযোগ দিতে হবে। সর্বস্তরের জনগণের কাউন্সিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে প্রস্তাবগুলি আলোচনা ও সুপারিশ গৃহীত হবে।
কেবল উপরোক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তার আগে নয়। এই সংবিধান সভা ছাত্র, শ্রমিক, সৈনিক, জনতার কাউন্সিলে গৃহীত সুপারিশের ভিত্তিতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন, সরকার ও রাষ্ট্র গঠন করবে।

