সিলেটে নৌকাবাইচ বন্ধের আওয়াজ তুলেছিল হেফাজতে ইসলাম আঞ্জুমান সংশ্লিষ্টরা। তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়। তাই দেখা গেল সহজেই তাদের দাবি নাকচ করে দিতে পেরেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার এক ধমকেই তারা সুর নরম করে সমঝোতা করে নিয়েছে।
কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইনে কনসার্ট বন্ধে হামলায় জড়িত ছাত্রদের মাদ্রাসাটির প্রধান হলেন হেফাজতে ইসলাম বাবুনগরী অংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সভারে গতকাল যারা সুরেশ্বরীর ওরস বন্ধের দাবি তুলেছে, তাদের অন্যতম হলো বাবুনগরী অংশ, তাদের সাথে বিএনপি, জামাতও যোগ দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এরাই সম্প্রতি ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস আয়োজন বন্ধের আওয়াজ তুলেছে এবং কিছুদিন আগে প্রশাসনের সহায়তায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছে। পুলিশ লাইন ঘটনায় দেখা গেল, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বদলে প্রশাসন ২ পুলিশকে সাসপেন্ড করেছে এবং নরম সুরে সমঝোতা করে নিয়েছে।
আরো আগ্রহোদ্দীপক ঘটনা হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওহাবি-সালাফি উগ্রবাদীদের এসব অগণতান্ত্রিক দাবি ও হামলার পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনগণকে গান-বাজনা, নাটক সিনেমাবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। অথচ ওহাবি-সালাফিবাদী ফ্যাসিবাদের ত্রাস কায়েমের আগে ঐতিহ্যগতভাবে এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিল সঙ্গীতসহ শিল্পকলার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।
প্রশ্ন হলো হেফাজতের বাবুনগরী অংশের প্রতি সরকারের এই নতজানু নীতি কেন?
আমরা সবাই জানি, হেফাজতে ইসলামের বাবুনগরী অংশ গত নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম সফরকালে হাটহাজারি মাদ্রাসায় গিয়ে মহীবুল্লাহ বাবুনগরীর দোয়া নিয়েছেন। সুতরাং রাজনৈতিক অংকটা খুব পরিষ্কার; বিএনপি ও তারেক সরকার বস্তুত রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে হেফাজতের নামে ওহাবি-সালাফি ফ্যাসিবাদী তৎপরতাকে অনুমোদন করছে।
এর মধ্যদিয়ে বিএনপি ও তারেক সরকারের রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ওহাবি-সালাফি ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার নগ্ন প্রকাশ ঘটল।

